রাখাইনে ‘আরসা’র নেপথ্য কথা

রাখাইনে ‘আরসা’র নেপথ্য কথা

বিএনএ, বিশ্ব ডেস্ক, ১১ অক্টোবর : মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিম ইস্যু নিয়ে যারা পর্যবেক্ষণে রয়েছে, তারা অনুধাবন করেছেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের বিদ্রোহী দমন নীতি বেসামরিক জনগণের দুর্দশা বাড়িয়ে দিয়েছে। -বাসস

গত ২৫ আগস্টের হামলায় ৩০ পুলিশ ও আর্মি পোস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৫ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গাকে নিজ মাতৃভূমি থেকে উচ্ছেদ করে প্রতিবেশি দেশ বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে উদ্বাস্তু হিসেবে। বলা হয়েছে, আরাকান রোহিঙ্গা সেলভেশন আর্মি (আরসা) নির্মূলে সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।

কিন্তু যথাযথভাবে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে আরসা শুধু নামমাত্র বিদ্রোহী সংগঠন। এর কার্যক্রম খুবই দুর্বল। আরসাকে রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই সমর্থন করে না। মিয়ানমার নিরাপত্তাবাহিনীও স্বীকার করেছে ২৫ আগস্ট হামলা চালানো আরসা সদস্যরা খুবই সাধারণ একটি গ্রুপ। দেশিয় অস্ত্রই তাদের সম্বল। বাঁশ ও ধারালো অস্ত্রই তাদের অস্ত্র। তবে  দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর মংডুর আলেল থান ইয় স্থানের পুলিশ পোস্টে যে হামলা চালানো হয়েছিল তা ছিল ভয়াবহ।

লে.অং ইয় মো জানান, সফররত সাংবাদিকদের একটি দল সতর্ক করায় স্থানীয় কর্মকর্তারা আগেভাগেই ব্যারাকে আশ্রয় নেয়। ৫ শ লোকের দু’টি দল বীচ’র দিক থেকে হামলা চালায়। তারা একজন ইমিগ্রেশন অফিসারকে হত্যা করে, যার বাসা ছিল বীচ সংলগ্ন এলাকায়।  পুলিশ কর্মকর্তারা  স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি চালালে ১৭টি মৃতদেহ পরে উদ্ধার করা হয়। এ পরিসংখ্যানটি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেওয়া।

একজন যুবক জানান, ২৫ আগস্টের হামলার সময় তাকেও  আরসার সদস্যরা ডেকেছিল। সংগ্রামরতদের সহায়তায় তারা বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছে। গরু ছাগল দিতে হতো। তারা বলেছে রোহিঙ্গাদের  যখন স্বাধীন ভূমি হবে তখন এ সব তারা শোধ করে দেবে।

আরসা সদস্যরা যুবাদের বিভিন্নধরনের দেশিয় অস্ত্র সরবরাহ করতো। নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে হামলা চালাতে উৎসাহিত করতো। তাদের এলাকার ২৫ জন আরসার সাথে যোগ দেয়। তারা আর ফিরে নি।  বিদ্রোহিদের  সহায়তা করার কেউ নেই।

আরসার এক সাবেক সদস্যের সাথে কথা বলে জানা গেলো, আরসা নেতা আতাউল্লাহ, ২০১৩ সালে একবার তাদের গ্রামে এসেছিলেন। রোহিঙ্গাদের পক্ষে নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আহবান জানিয়ে বলেছিলেন, এখনই সময় রুখে দাঁড়াবার। গ্রামগুলো থেকে যে সব যুবক আরসায় যোগ দিয়েছিল তাদের নিয়ে তিনি পেট্টোল বোমা কিভাবে বানাবে তার প্রশিক্ষণ দেন পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে। গ্রামবাসীরাও তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। তারা প্রায় গ্রামে ঘুরে বেড়াতো। তাদের হাতে বাশেঁর লাঠি সহ অন্যান্য দেশিয় অস্ত্র দেখা গেলেও কখনো অস্ত্র দেখেনি কেউই। তারা সবাইকে মসজিদে আসতে বাধ্য করতো।

কেন হামলা ?

বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা। রোহিঙ্গাদের উপর চলমান হত্যা নির্যাতন বৈষম্য নিয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পুলিশ পোস্টে হামলা চালায় আরসা।

আরসার স্থানীয় আমির বলেছে,  হামলা চালাও প্রথমেই। মরতে এমনি হবে। মেরে মরো। মরলে শহীদ। সেনাবাহিনী আসছে। তারা হামলা করবে। তোমরা পালাও। পালাতে গিয়ে স্থানীয় বৌদ্ধদের হাতে নিগৃহীত হতে হয়েছে তাদের।

ছুরি আর বাশেঁর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়ে অনেক হতাহত করে নিজেরাই শহীদ হয়েছে আরসা সদস্যরা।

কোন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসি দলের সাথে  সম্পর্ক নেই বলে স্বীকার করেছে তারা। আমরা আমাদের অধিকারের জন্য লড়ছি। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহের চেষ্টা রয়েছে আরসার। আরসার রয়েছে কয়েকশ সদস্য।

এদের মধ্যে প্রশিক্ষণবিহীন ও অস্ত্রহীন সদস্যের সংখ্যা বেশি। রোহিঙ্গাদের উপর সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় ২৫ আগস্ট পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত রোহিঙ্গা নাগরিক আতা উল্লাহ আরসা গঠন করেন ২০১২ সালে।তিনি বলেন, এটি আত্মরক্ষার জন্য। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা বন্ধে। আত উল্লাহ  নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন।আমরা সন্ত্রাসি নয়, আমরা কোন বিচ্ছিন্নতাবাদি দল নই। আমরা আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই করছি। এটি আদি জাতিগত স্বত্তার টিকিয়ে রাখার লড়াই।

এদিকে জেনারেল মিং অং বলেছেন রাখাইনের কোন স্থান বাঙালি সন্ত্রাসিদের হাতে হারানো সেনাবাহিনী তা বরদাস্ত করবে না। এটি ১৯৪২ সালের অসম্পূর্ণ একটি কাজ। বৃটিশ ও জাপানিদের সাথে সংঘটিত লড়াই থেকে যার শুরু। মিয়ানমারের রাখাইন ও বৌদ্ধরা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসী মনে করে থাকে। তারা স্বীকার করে না, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক।

সম্পাদনায় : আ.হা

Share