মিয়ানমারে চীনের স্বার্থ

মিয়ানমারে চীনের স্বার্থ

বিএনএ, বিশ্ব ডেস্ক,৮ নভেম্বর : প্রায় দুই বছরের  আগে  মিয়ানমার চীনের বিশাল   বিনিয়োগের প্রস্তাব পছন্দ করেছিল দেশ বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ছিল ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বন্দর ও শিল্পায়ন পার্ক’র উন্নয়ন করা।সমালোচকরা একটু বাঁকা দৃষ্টিতে এর সমালোচনা করে বলছে, পরিকল্পনাগুলো বেজিংয়ের স্বার্থে গৃহীত।

বেজিং এর প্রকল্প অনুসারে  এখানে  কমপক্ষে ১ লাখ মানু্ষের কর্মসংস্থান গড়ে ওঠবে।একটি দরিদ্র অঞ্চল রূপান্তরিত হবে সমৃদ্ধ অঞ্চলে। এতে লাভবান হবে মিয়ানমার। কিন্তু সময় যতো বাড়ছে ততো বাড়ছে সন্দেহ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ে বাড়ছে জটিলতা।

এ প্রকল্পের আগে আরো আলাপ আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। মিয়ানমারের উত্তর পূর্বে চীনের বন্ধ হয়ে থাকা মিতসোন  ড্যাম প্রকল্পের এখনো কোন সুরাহা হয়নি।

উভয় পক্ষই রাখাইন স্টেটের পশ্চিম উপকূলিয় অঞ্চলের কুইয়ুপিউস স্থানটি পছন্দ করেছে বন্দর  গড়ে তোলার জন্য। এরই মধ্যে উত্তর পশ্চিম রাখাইন   থেকে সেনা অভিযানে ৭ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান দেশ ছেড়ে গেছে বাংলাদেশে।

উগ্র বৌদ্ধ ও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সেনাদের অমানবিক নির্যাতন বিশ্বব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে সুচি সরকারের ভাবমূর্তি।  অক্টোবরের প্রথম দিকে চুক্তির দুই বছর পর চীন ও মিয়ানমার গভীর সমুদ্র বন্দর নিয়ে নিজ নিজ মালিকানাধীন বিষয়ে একটি চুক্তিতে উপনীত হয়। ৭.৩ বিলিয়ন দিয়ে নির্মিতব্য গভীর সমুদ্র বন্দরে চীনের অংশ ৭০ শতাংশ. ২.৭০ বিলিয়ন মিয়ানমারের যা ৩০ শতাংশ।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে চীন মিয়ানমার ৫০:৫০ শেয়ার। এতে মিয়ানমারকে দিতে হবে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার। এ নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক। মিয়ানমার যদি এ অর্থ যোগান দিতে ব্যর্থ হয় হাত পাততে হবে চীনের কাছে। শেষে জনগণের পকেট খালি করে সে ঋণ শুধতে হবে সুদ সমেত।  উপরন্তু চীন নেভাল বেস বসিয়ে বঙ্গোপসাগর  দিয়ে ভারত মহাসাগরে যেতে দ্বৈত সুবিধা ব্যবহারে  সুযোগ সুবিধা চাইতে পারে।

গভীর সমুদ্র বন্দর নিয়ে  চীনের একটি পরিষ্কার লক্ষ্য রয়েছে।  এতে ভারত মহাসাগরে চীনের একটি কৌশলগত আউটপোস্ট সৃষ্টি হবে। যা চীনের দারিদ্রপীড়িত  দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলের সাথে যুক্ত হবে।

মিয়ানমারের পর্যবেক্ষকরা প্রশ্ন তুলেছে মেগা প্রজেক্টটি নিয়ে।  বার্মার গভীর উদ্যোগ নিরাপত্তা নিয়ে। উপরন্তু অর্থনৈতিক ঋণে জর্জরিত হওয়ার শঙ্কা। কুইয়ুপিউ থেন সিন সরকারের আমলে তিনটি বিশাল অর্থনৈতিক জোনের অন্যতম। ইয়াংগুনে এসইজেড প্রকল্পটি চালাচ্ছে   জাপান। অন্যটি থাইল্যন্ড।

সম্পাদনায় : আ.হা

 

Share