রোহিঙ্গা তরুণীদের বিপদ

রোহিঙ্গা তরুণীদের বিপদ

বিএনএ, বিশ্ব ডেস্ক, ১৩ নভেম্বর : জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৬ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীরা প্রতারণার ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিবিসির একজন প্রতিবেদক নমিয়া ইকবালকে এক রোহিঙ্গা নারী বলেছেন, তাকে জোর করে বিয়ে করে এখন বেশ্যাবৃত্তি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। পিংক রংয়ের একটি স্কার্ফ পরিহিতা হামিমা (২১) একটি ব্যক্তিগত স্থানে তার সাথে কথা বলতে রাজী হলে তিনি এ সব কথা জানতে পারেন।

হালিমা বলেন, বাংলাদেশে প্রবেশের পর স্থানীয় কিছু মানুষ আমাদের খাবার দেয়। তিনি আমাকে বলেন, তার স্ত্রী মারা গেছে । তার দুটি সন্তান রয়েছে। তিনি আমাকে বিয়ে করতে চান।  হালিমা তাকে বিশ্বাস করে তার ঘরে গিয়ে দেখেন তার মতো সাত আটজন তরুণী ঐ ঘরে রয়েছে। আমি ভীত হয়ে পড়লাম। সে ঘরে সে আমাকে বেশ কিছু মানুষের সাথে রাত কাটাতে বাধ্য করলো।

হালিমা সহিংস রাখাইন থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে এসেছে তিন মাস হলো। সে জানে না কোথায় তার পরিবার পরিজন। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে অর্ধেকই শিশু। হালিমা জানালো, সে ঘরে তাকে দুই মাস থাকতে হয়েছে। অনেক সময় চার পাঁচ জন আসতো তাকে সম্ভোগ করার জন্য। তার খুব কষ্ট হতো। তার রক্তপাত শুরু হয়ে যেতো। তাকে কোন টাকা পয়সা দেওয়া হতো না। তিন বেলা খাবার জুটতো।

একদিন এক পুলিশ কর্মকর্তা এলো তার সাথে যৌনক্রিয়া করতে। তার সমস্ত কথা শুনে তাকে বোন বলে সম্বাধন করলো। সে সারা রাত ওখানে অবস্থান করলেও তার সাথে কোন অসদাচরণ করেনি।  তার মোবাইল নম্বর দিয়ে গেলো। একদিন তাকে বেদম প্রহার করলো বাড়ির কত্রী মহিলাটি। তাকে আহত হয়ে ১৫দিন বিছানায় কাটাতে হলো।

একদিন সে পরিকল্পনা করে পালালো এখান থেকে পুলিশ কর্মকর্তাকে ফোন করে । নিয়ে গেলো আরো ছয়জন মেয়েকে। সে বললো তুমি এখন মুক্ত। তার কাছে কোন টাকা পয়সা নেই। পতিতা হয়ে টাকা আয় করা ছাড়া কোন উপায় নেই। হালিম তার দেশে  ফিরে যেতে চায়। তার পরিবারের সাথে মিলতে চায়। এ জীবন সে কামনা করেনি। এ ধরনের ব্যাপারে শংকিত বাংলাদেশ সরকার সহ জাতিসংঘে কর্মকর্তারাও। এদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাসাধ্য করছে স্বেচ্ছাসেবকদলের কর্মীরা।

সম্পাদনায় : আ.হা

Share