বোগাস রিপোর্ট !

বোগাস রিপোর্ট !

বিএনএ, বিশ্ব ডেস্ক, ১৪ নভেম্বর : মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে তাদের অভ্যন্তরীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তারা রোহিঙ্গা জনগণকে হত্যা, ঘরবাড়ি পোড়ানো, ধর্ষণ ও নির্যাতনের সমস্ত দায় অস্বীকার করেছে।-বিবিসি

রোহিঙ্গাদের সহায় সম্পত্তি লুণ্ঠনের ব্যাপারেও তারা নিজেদের নির্দোষ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।  এ প্রতিবেদন জাতিসংঘের নৃগোষ্ঠি নির্মূলে পাঠ্যবইয়ের উদাহরণ  রিপোর্টের সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী একটি বক্তব্য।

এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, সেনাবাহিনীর এ রিপোর্ট  অপরাধ ঢাকার একটি অপচেষ্টা। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে রাখাইনে প্রবেশের অনুমতি প্রদানের আহবান জানিয়েছে।ঘটনাবহুল এলাকায় সংবাদ মাধ্যমের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে মিয়ানমার।

বিবিসির দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার করেসপনডেন্ট জোনাথন দেখেছেন স্থানীয় বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় বসবাস করছে সশস্ত্র পুলিশের সামনেই।

২৫ আগস্টের পর সেনা অভিযানে  ৬ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে এসেছে  মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে। এদের অধিকাংশই ছিল গুলিবিদ্ধ আহত। পালিয়ে আসা মানুষগুলো বলেছে, সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা মিলিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের অনেক মানুষকে হত্যা করেছে।

ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বলেছে, কয়েকহাজার গ্রামবাসীর স্বীকারোক্তিতে তারা জানিয়েছে,  * কোন নিরপরাধ গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হয়নি * কোন নারী ধর্ষণের শিকার হয়নি, গ্রেপ্তার প্রহার হত্যা করা হয়নি কোন গ্রামবাসীকে, * তাদের গৃহস্থালী জিনিসপত্র,গবাদি পশুপ্রাণি ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়নি,* কোন মসজিদে আগুন লাগানো হয়নি, *তাদের গ্রাম থেকে বিতাড়িত করতে হুমকি দেওয়া হয়নি, *তাদের বাড়িঘরে আগুন লাগানো হয়নি।  এসমস্ত অপরাধের জন্য দায়ী রোহিঙ্গাদের মধ্যে অবস্থানরত বাঙালি সন্ত্রাসিরা। তারাই এ অপকর্ম ঘটিয়েছে।

বিবিসির দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার করেসপনডেন্ট জোনাথন বলেছেন, অতীতে মানবাধিকার লঙ্গনের ঘটনায় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ প্রকৃত তথ্য এড়িয়ে যেতেন। এ রিপোর্ট দেখে মনে হচ্ছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের  নীতি নৈতিকতার কোন পরিবর্তন হয়নি। এ রিপোর্টটি সেনা অফিসারদের মনগড়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি রিপোর্ট। যেটি সেনা সদস্যরা তাদের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পালন করেছে।  এ রিপোর্টটি পড়ে কেউ আশ্চর্যান্বিত হবে না। বরঞ্চ এটাই স্বাভাবিক।

এ রিপোর্টটিতে বিশ্বস্ততার গ্রহণযোগ্যতার যথেষ্ট অভাব পরিলক্ষিত  হয়েছে। এটি পক্ষপাতদুষ্ট একটি রিপোর্ট।  অনেক সংস্থা তাদের রিপোর্টে রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্ত করেছে। তাতে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পালিয়ে আসতে থাকা অসহায়  রোহিঙ্গা নারী শিশুদের  ওপর ভারী মেশিনগানের গুলি বর্ষণ করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

ওরা বলেছে মেশিনগান নয়, হাল্কা মারণাস্ত্রের ফায়ার ছিল ওগুলো। অথচ সরকারের আয়োজিত সফরে যারা গেছে তারা পরিস্কারভাবে শুনতে পেয়েছে মেশিনগানের গুলির শব্দ।

তারা মানবতার বিরুদ্ধে জঘণ্য অপরাধ করার  পরও অস্বীকার করার মতো ঘৃণ্য আরেকটি অপরাধে লিপ্ত হয়েছে। এমনেস্টি বলেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী রিপোর্টটিকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার কোন প্রয়োজনও অনুভব করেনি। এটি এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর নির্ভর করছে। এ ধরনের অপরাধ কি শাস্তিছাড়া যেতে দেওয়া যায় কিনা তা দেখা দরকার।

যে জেনারেল এ অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে রিজার্ভে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর কারণ জানা যায়নি। তার নাম মেজর জেনারেল মং মং সো।

আরসা বলেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্টিকে রক্ষায় রোহিঙ্গা যুবকদের দেশি অস্ত্র এ বিদেশি প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করতে হবে।

সম্পাদনায় : আ.হা

Share