অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি পুনরায় ফিরিয়ে আনতে নবী(স.) পথ অনুসরনের বিকল্প নেই

আজ বিশ্বের দেশে দেশে সংঘাত। ক্ষমতার লড়াই, ভূমি দখল, আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টায় প্রতিদিন প্রাণ দিচ্ছে শত শত মানুষ।  ক্ষুধা দারিদ্রতায় জর্জরিত পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষ। পাপাচার অনাচারে জর্জরিত মানব জাতি। মানুষে মানুষে হিংসা হানাহানীতে লিপ্ত। এমনতাবস্থায় রাসুল (সঃ) এর প্রচারিত আল-কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্টার কোন বিকল্প নেই।

হযরত মুহম্মদ (সা:)সর্বশেষ নবী ও রাসুল । তাঁর পবিত্র জন্ম ও ওফাতের পুণ্য স্মৃতিময় দিন আজ। পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অর্থাৎ নবী করিম (সা.)-এর জন্মোৎসব বা জন্ম দিবসের আনন্দ। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে বর্তমান সৌদি আরবের মক্কা নগরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের একই দিনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তকের জন্ম ও ওফাতের এই দিনটি বিশ্বের সব মুসলমানের কাছে অশেষ পুণ্যময় একটি দিন।আল্লাহ তায়ালা তাঁকে রহমাতুল্লিল আলামিন বা সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেন।

 

তাঁর আদর্শ ও চারিত্রিক মাধুর্যের কারণে নানা গোত্রে বিভক্ত, কলহ-বিবাদপ্রিয়, সামাজিক ও নৈতিকভাবে অধঃপতিত, যাযাবর ও বর্বর আরব জাতি একটি সুমহান জাতিতে পরিণত হয়। তিনি উৎপীড়িত ও অত্যাচারিত মানুষের প্রকৃত বন্ধু ছিলেন। এতিম, দাস, কন্যাশিশু, বিধবা নারী ও গরিব-দুঃখীর দুঃখমোচনে সদাতৎপর ছিলেন।
৬১০ খ্রিস্টাব্দে হেরা গুহায় নবুয়তপ্রাপ্তির আগেই তাঁকে আল-আমিন (বিশ্বস্ত) ও আস-সাদিক (সত্যবাদী) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল।

তাঁর কারণেই আরব জাহানে নবজীবন সঞ্চারিত হয়, নতুন সংস্কৃতির উন্মেষ ঘটে, নবীন সভ্যতার গোড়াপত্তন হয় এবং উদ্ভব ঘটে একটি নতুন জীবনব্যবস্থার।
মহানবী (সা.)-এর শান্তি, মিলন ও ভ্রাতৃত্বের জীবনাদর্শই হোক আমাদের জীবনের একমাত্র পাথেয়। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করেই আমরা সব ধরনের অন্যায়-অবিচার থেকে মুক্তি পেতে পারি। জাতিতে-জাতিতে মিলেমিশে বসবাস করতে পারি।

রাসুল (সাঃ) কখনো নিজে থেকে শত্রুবাহিনীকে যুদ্ধের আমন্ত্রন জানাননি, প্রথমেই নিজের পক্ষ থেকে আক্রমন বা যুদ্ধের পরিবেশ তৈরী করেননি। সব সময় তিনি ধৈর্য্যের নীতি অবলম্বন করেছেন। রাসুলের (সাঃ) সব যুদ্ধ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে মুসলমানদের যুদ্ধের প্রস্তুতি স্বল্প থাকলেও আল্লাহর সাহায্য, ধৈর্য্য ও কৌশলে মোকাবেলা করেছেন।

পৃথিবীটা যদি বসবাসের অযোগ্য হয়ে যায় তাহলে পৃথিবীর সব আয়োজন একেবারে বৃথা।  অশান্ত ধরাকে শান্তির ছায়াতলে আবদ্ধ করতে রাসুল (সঃ) এর প্রচারিত আল-কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্টার কোন বিকল্প নেই। বিশ্ব মানবতার কষ্ট লাঘবের জন্য রাসুল (সাঃ) এর শান্তি প্রতিষ্টার ফর্মূলা আল কুরআনের নির্দেশনাকে অনুস্বরণ করা। যার মাধ্যমে আসতে পারে সারা বিশ্বে চির শান্তি।

Share