রাজধানীতে সংঘর্ষ, ভাংচুর-আটক

রাজধানীতে সংঘর্ষ, ভাংচুর-আটক

বিএনএ, ঢাকা, ৫ ডিসেম্বর ২০১৭:  দুর্নীতির মামলায় আদালত থেকে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের পেছনে থাকা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে এতে বাধা দেয় পুলিশ, এরপরই শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠি চার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় সচিবালয় ও বঙ্গবাজার এলাকায় বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর ও আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকের এ ঘটনায় বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম, ঢাকার ৩১ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলামসহ ২০-২৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বঙ্গবাজার ও পার্শ্ববর্তী সচিবালয় এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিছিল করেন। এ সময় মিছিলকারীদের পুলিশ বাধা দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে একদল বঙ্গবাজারের দিকে ও অপরদল উল্টো ঘুরে জিরো পয়েন্টের দিকে পালিয়ে যায়। পুলিশি ধাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা যাওয়ার পথে ‘ভাঙ গাড়ি’ বলে চিৎকার করতে করতে শিক্ষা ভবন ও খাদ্য ভবনের সামনের রাস্তায় পার্ক করে রাখা সরকারি-বেসরকারি বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করে। এছাড়া বঙ্গবাজার এলাকায় একটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে ধরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ মিছিলকারীদের ওপর লাঠিপেটা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।

ডিএমপির রমনা বিভাগের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার বলেন, আদালতে হাজিরা দিয়ে খালেদা জিয়া ফেরার পথে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। রাস্তা থেকে অবস্থান সরিয়ে নেয়ার কথা বললে তারা পুলিশের উপর ইট-পাটকেল মারতে শুরু করে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ছোড়া হয়। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা বঙ্গবাজারের দিকে চলে যায়। যাওয়ার পথে সচিবালয় এলাকায় তারা বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে। এছাড়া বঙ্গবাজারের সামনে পার্ক করা একটি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয় তারা। এ ঘটনায় ২০ থেকে ২৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বকশী বাজারের অস্থায়ী আদালতে হাজিরা দিতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে হাইকোর্ট-সংলগ্ন কদম ফোয়ারার কাছ থেকে আমিনুল হকসহ ২০-২৫ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর তাদের সবাইকে প্রিজন ভ্যানে করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবী করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলন:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বিএনপি চেয়ারপার্সন কার্যালয়ে মংগলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে  বলেন, আজ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বকশীবাজারে অবস্থিত আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আইন শৃংখলা বাহিনী জলকামান, সাজোয়া যান নিয়ে অভ্যাত্থানর জন্য অপেক্ষারত বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের অসংখ্য নেতা-কর্মীদের উপর বেপরোয়া আক্রমন চালায়। বেধড়ক লাঠিচার্চ এবং বৃষ্টির মত রাবার বুলেট ছুড়তে থাকে পুলিশ। সেখান থেকে বিএনপি’র ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। হাইকোর্টের সামনে অপেক্ষমান নেতা-কর্মীদের উপর দাঙ্গা পুলিশ, ডিবি পুলিশ আকষ্মিক আক্রমান চলিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আহত করে। এখানে গুরতর আহতদের মধ্যে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ সামছুল আলম তোফাসহ বেশ কিছু নেত-কর্মী। পুলিশি হামলা চালিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাসেল, ওয়ারী থানা বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা সেলিম, বিএনপি নেতা হাজী মো: ফারুক, দুলাল হোসেন, আব্দুল আউয়াল, আব্দুর রহিম, কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করে। তাইজুদ্দিন আহমেদ তাইজু, আবু সুফিয়ান, রাইসুল ইসলাম চন্দন, সুমন, শামসুল হক শামসু, দেলোয়ার, হারুন, জহির, লিটনসহ অসংখ্য নেতা-কর্মী পুলিশি আক্রমনে আহত হয়। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান উজ্জল, সদস্য সোহেল রানা, রাজধানীর তিতুমির কলেজ ছাত্রদল নেতা মাইনুল হোসেন সোহাগ এবং রামপুরা থানা ছাত্রদল নেতা অনিকুর রহমান জাফরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে বিএনপি’র ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকসহ ঢাকা মহানগর এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করেন।

এসকেকে/এসজিএন

Share