জেনেভায় এবারো বাংলাদেশের  বিপক্ষে চীন

জেনেভায় এবারো বাংলাদেশের বিপক্ষে চীন

বিএনএ,ঢাকা, ৫ ডিসেম্বর : জেনেভা : বাংলাদেশ পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী  মোহাম্মদ  শাহরিয়ার আলম  এমপি জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলকে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে  যথাযথভাবে ফলাফল অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত  কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ সঙ্কট বাংলাদেশ সৃষ্টি না করেও এর বিরূপ ফলাফল বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখ মানুষের ভারে  বাংলাদেশের  আর্থসামাজিক অবস্থার উপর প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে,জনগণের উপর চাপ বেড়েছে, পরিবেশ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হচ্ছে।

গত ৫ ডিসেম্বর তিনি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের  বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি বলেন বাংলাদেশ প্রতিবেশিমূীলক আচরণের মাধ্যমে গত ২০০৫ সাল থেকে এ সঙ্কট সমাধানের চেষ্টা করে আসছে। মিয়ানমার আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে অঙ্গীকার করেছে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। এটি সম্ভব হবে যদি আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত থাকে তবেই।

জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি প্রামিলা পাট্টেন বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা নাগরিকদের প্রতি  সর্বোচ্চ মানবিকতা ও সৌজন্যতা প্রদর্শন করেছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বলেন রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা দিয়ে তিনি বিশাল মানবতার কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক মহল তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ বিশেষ সেশনটি যৌথভাবে আহবান করেছে জেনেভাভিত্তিক স্থায়ী প্র্রতিনিধি  সৌদি আরব ও বাংলাদেশ।

এতে  ওআইসি সদস্যভূক্ত দেশসমূহ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সাড়া মিলেছে।

পরে অধিবেশনের সভাপতি ও জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জোয়াকুইন আলেক্সান্ডার মাজা মার্তেল্লির উপস্থিত সদস্যদের ভোটে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। ভোটের ফলাফলে তিনি জানান, প্রস্তাবের পক্ষে ৩৩টি ও বিপক্ষে ৩টি দেশ ভোট দিয়েছে। ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে ৯টি দেশ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষ অধিবেশনে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের অধিকার সুরক্ষা বিষয়ক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাস না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

চীন এবারও মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিপক্ষে ভোট দেয়।ভারত ভোট প্রদানে বিরত থাকে। মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের হাইকমিশনার জে’রাদ আল  হোসাইন তার বক্তব্যে বলেন, রাখাইনে যা ঘটেছে এটি পরিষ্কার গণহত্যা। রাখাইন জনগোষ্টিকে ধ্বংস করার জন্য এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্টে অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদরে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।দেশগুলো মিয়ানমারের গত মার্চ মাসে গঠিতজাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে  সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করার আহবান জানায়।

এরপর মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি তিন লিন প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সবার জন্য সুরক্ষা অপরিহার্য, সেখানে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তাবটি বাজে দৃষ্টান্ত তৈরি করতে যাচ্ছে। তা ছাড়া প্রস্তাবে যা বলা হয়েছে, তা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জেনেভায় চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি মা ঝাওজু বলেন, দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়াই রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান। এ সমস্যা সমাধানে চীনের দেওয়া তিন ধাপের প্রস্তাবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও স্বাগত জানিয়েছে।

জেনেভায় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাজীব চন্দর বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সহযোগিতা করে আসছে ভারত। দেশ দুটির মধ্যে ২৩ নভেম্বর যে চুক্তি হয়েছে তা যৌক্তিক উপায়ে, আস্থা ও সুপ্রতিবেশীসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবে বলে ভারত আশা করে।

সম্পাদনায় : আ.হা

 

 

 

Share