ভর্তি পরীক্ষায় উস্কানিমূলক প্রশ্ন: দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ভর্তি পরীক্ষায় উস্কানিমূলক প্রশ্ন: দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

বিএনএ, রাজশাহী,৭ ডিসেম্বর ১৭।। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় ‘আই’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় সাম্প্রদায়িক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করার দায়ে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গত বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭৪ তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ নেওয়া হয়েছে বলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপ-উপার্চায অধ্যাপক আনন্দ কুমুর সাহা ।

তিনি জানান, সিন্ডিকেট সভায় চারুকলার অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জিল্লুর রহমানকে আগামী ১০ বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ধরনের পরীক্ষা কার্যক্রমে নিষিদ্ধ করা হয়।

এছাড়া শিক্ষক জিল্লুর রহমানের ‘সহযোগী অধ্যাপক পদে পদন্নোতি হওয়ার সময় এলে সে সময় থেকে আরো ৫ বছর পরে তিনি পদোন্নতি পাবেন বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছড়াও ডিনের পদ থেকে অব্যাহতির জন্য আইনগত কোনো বাধা যদি না থাকে, তাহলে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে গত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত চারুকলা অনুষদের ‘আই’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার দুই নম্বর সেটের ৭৬ নম্বর প্রশ্নটি ছিল- ‘বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ কোনটি? উত্তরের জন্য দেওয়া চারটি অপশন ছিল- (ক) পবিত্র কুরআন শরীফ (খ) পবিত্র বাইবেল (গ) পবিত্র ইঞ্জিল (ঘ) গীতা। গীতার আগে ‘পবিত্র’ ছিল না।

একই সেটের ৪১ নম্বর প্রশ্নটি ছিল- ‘মুসলমান রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা সশস্ত্র হামলা চালায় কত তারিখে? পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকে এ দুটি ‘সাম্প্রদায়িক প্রশ্ন নিয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

পরে গত ২৮ অক্টোবর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহাকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে অন্যদের মধ্যে ছিলেন- ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক শহীদুল্লাহ, ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবু বকর মো. ইসমাইল ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সেসময় নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এছড়াও ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) শিক্ষক অধ্যাপক হাছানাত আলীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নাহিদ হায়দারকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। নাহিদ আইবিএ’র সান্ধ্যকালীন এমবিএ নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিল।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইন্টার্নশিপ পেপারে স্বাক্ষর দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষক হাছানাত আলীকে মারধর করে তার অধীনে ইন্টার্নশিপ করা শিক্ষার্থী নাহিদ হায়দার। ঘটনা পরপরই নাহিদকে আটক করে পুলিশ। ঘটনার দিন রাতেই শিক্ষক হাছানাত মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনা তদন্তে ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মহসিন-উল-ইসলামকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

আরকেসি/এসজিএন

Share