অসময়ে চলে গেলেন প্রিয় পুলক সরকার

অসময়ে চলে গেলেন প্রিয় পুলক সরকার

।।সৈয়দ গোলাম নবী।।

অসময়ে চলে গেলেন সাংবাদিক পুলক সরকার।সদা হাসি খুশি ও চাল চলনে স্মার্ট ছিলেন এই  সাংবাদিক বন্ধু। স্ত্রী ও একমাত্র আদরের কন্যাকে রেখে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে প্রাণ ত্যাগ করেন। খুব আফসোস ছিল তার। জীবনে সাংবাদিকতা করে কিছুই করতে পারেন নি। পারেননি  স্ত্রী ও সন্তানকে মাথা গোঁজার ছাদটুকু উপহার দিতে।

অবশ্য চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সর্বশেষ গৃহীত প্রস্তাবিত প্রকল্পে  তার নামটি স্থান পেয়েছে।যদি তার স্বপ্নের এ প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখে তার আত্মা হয়তো শান্তি পাবে। পুলক সরকার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নেরও সদস্য ছিলেন।

দীর্ঘ দিন এক সাথে বেসরকারী সংবাদ সংস্থা বিএনএ প্রা.লি. এ কাজ করার সুবাধে তার অনেক স্বপ্ন, সুখ ও দু:খের কথা শুনতে পেয়েছিলাম।অবশ্য আগে থেকে পুলক সরকারকে চিনতাম।তিনি এক সময় দৈনিক নয়া বাংলা, দৈনিক পূর্বকোণ, দৈনিক স্বাধীনতায় পত্রিকায়ও কাজ করেছেন।সর্বশেষ বিজয় টিভিতে যোগ দেন।  আমি যখন ১৯৯২ সালে দৈনিক ঈশান পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করি, তখন জামালখানের স্বাধীনতা অফিসে নিয়মিত দেখা সাক্ষাত হতো। দৈনিক স্বাধীনতা পত্রিকার সম্পাদক মরহুম আবদুল্লাহ আল হারুনের কাছের মানুষ ছিলেন। এক সময় পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ হলে তিনি পুনরায় দৈনিক নয়া বাংলায় যোগ দেন। সর্বশেষ গত ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে চকবাজার অলি খাঁ মসজিদের সামনে তার সাথে সাক্ষাত হয়েছিল। দেখা হওয়া মাত্রই সুন্দর ফর্সা হাস্যোজ্জ্বল পুলক দা  জড়িয়ে ধরেন।  দু’জনেরই তাড়া থাকায় বেশি কথা হয় নি। ভাবতেও পারছি না পরের শুক্রবার তিনি ইহলোকে আর থাকছেন না।

নতুন কোন ব্যক্তি বা সাংবাদিকের সাথে আমাকে পরিচিত করে দেয়ার সময় বলতেন, ” ও আমাদের সে বিখ্যাত প্রবীণ সাংবাদিক মরহুম সৈয়দ মোস্তফা জামালের ছেলে”। পুলক সরকার অনেক সামাজিক সংগঠনের সাথেও কাজ করেছেন।

তার গ্রামের বাড়ি বাঁশখালী থানার কালীপুর গুণাগরি গ্রামের রজার পাড়ায়।তার পিতার নাম মৃত জয়ন্ত সরকার। মৃত্যুকালে তিনি তিন ভাই, তিন বোন, মা, স্ত্রী ও কন্যা রেখে গেছেন।১৯৭১ সালের ২ জানুয়ারি তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। আর মৃত্যু ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭।

 

 

 

Share