বিশ্ব ইজতেমায় যাতায়াতের পথ নির্দেনা

বিশ্ব ইজতেমায় যাতায়াতের পথ নির্দেনা

বিএনএ, ঢাকা, ১১ জানুয়ারি ২০১৮:  টঙ্গীর তুরাগ তীরে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্ব ইজতেমায় বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বিকল্প সড়কে যানবাহন চলাচল এবং গাড়ি পার্কিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আশুলিয়া থেকে আব্দুল্লাহপুরগামী যানবাহনগুলো আব্দুল্লাহপুর না এসে ধউর ব্রিজ ক্রসিং দিয়ে ডানে মোড় নিয়ে মিরপুর বেড়িবাঁধ দিয়ে চলাচল করবে। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে আব্দুল্লাহপুরগামী আন্তঃজেলা বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ সব ধরনের যানবাহন মহাখালী ক্রসিং-এ বামে মোড় নিয়ে বিজয় সরণী-গাবতলী দিয়ে চলাচল করবে। কাকলী, মিরপুর থেকে আসা যানবাহনগুলো এয়ারপোর্টের দিকে না গিয়ে হোটেল রেডিসন গ্যাপ এবং কুড়িল বিশ্বরোডে ইউটার্ন করে বা ফ্লাইওভার হয়ে প্রগতি সরণী দিয়ে চলাচল করবে। প্রগতি সরণী থেকে আব্দুল্লাহপুরগামী যানবাহনগুলো বিশ্বরোড ক্রসিং-এ ইউটার্ন করে বা ফ্লাইওভার দিয়ে কাকলী-মহাখালী রোড ও মিরপুর ফ্লাইওভার দিয়ে চলাচল করবে।

আগামী ১৪ জানুয়ারি প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতের দিন এবং ২১ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের দিন বিমানের অপারেশন্স ও বিমান ক্রু বহনকারী যানবাহন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সব ধরনের যানবাহনকে বিমানবন্দর সড়ক এড়িয়ে বিকল্প হিসেবে মহাখালী, বিজয় সরণী হয়ে মিরপুর-গাবতলী সড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

বিদেশগামী বা বিদেশ ফেরত যাত্রীদের বিমানবন্দরে আনা-নেওয়ার জন্য ট্রাফিক উত্তর বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ৪টি বড় আকারের মাইক্রোবাস নিকুঞ্জ-১ আবাসিক এলাকার গেটে ভোর ৪টা থেকে মোতায়েন থাকবে।

ট্রাফিক সম্পর্কিত যে কোনও তথ্যের জন্য উত্তরা ট্রাফিক জোনের সিনিয়র এসি মো. জিন্নাত আলী মোল্লা- ০১৭১৩৩৯৮৪৯৮ এবং একই জোনের টিআই মো. মাহফুজার রহমান- ০১৭১১৩৬৬৫৬১ এর মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রেইনবো ক্রসিং থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত এবং রামপুরা ব্রিজ থেকে প্রগতি সরণী পর্যন্ত রাস্তা ও রাস্তার পাশে কোনও যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। পরিবর্তে নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে গাড়ি পার্ক করতে হবে। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে আগতদের গাড়ি গাউসুল আজম এভিনিউ (১৩ নম্বর সেক্টর রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে পশ্চিম প্রান্ত হয়ে গরীবে নেওয়াজ রোডে পার্ক করতে বলা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা বিভাগ থেকে আগতরা সোনারগাঁও জনপথ চৌরাস্তা থেকে দিয়াবাড়ী খালপাড় পর্যন্ত, সিলেট বিভাগ থেকে আগতরা উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর শাহমখদুম এডিনিউ, খুলনা বিভাগ থেকে আগতরা উত্তরা ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরের খালি জায়গা, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে আগতরা প্রত্যাশা হাউজিং ও বরিশাল বিভাগ থেকে আগতরা গাড়ি ধউর ব্রিজ ক্রসিং সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ ল্যান্ডিং স্টেশনে গাড়ি পার্ক করতে পারবেন। এছাড়া ঢাকা মহানগরীর জন্য উত্তরা শাহজালাল এভিনিউের নিকুঞ্জ-১ এবং নিকুঞ্জ-২ এর আশপাশের খালি জায়গায় গাড়ি পার্ক করতে বলা হয়েছে।

ডিএমপির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত পার্কিং স্থানে মুসল্লিবাহী যানবাহন পার্কিং এর সময় অবশ্যই গাড়ির চালক অথবা হেলপার গাড়িতে অবস্থান করবেন এবং মালিক ও চালক একে অপরের মোবাইল নম্বর নিয়ে রাখবেন, যাতে বিশেষ প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে পারস্পরিক যোগাযোগ করা যায়।

শুধুমাত্র আখেরি মোনাজাতের দিন আগামী ১৪ জানুয়ারি ও ২১ জানুয়ারি ভোর ৪টা থেকে মহাখালী ক্রসিং, হোটেল রেডিসন গ্যাপ, প্রগতি সরণী, কুড়িল ফ্লাইওভার লুপ-২, ধউর ব্রিজ ও বেড়িবাঁধ সংলগ্ন উত্তরা ১৮নং সেক্টরের প্রবেশ মুখে গাড়ি পার্কিং করা যাবে।

মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ ধর্মীয় সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা গতবারের মতো এবারও দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী প্রথম পর্ব শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ১৪ জানুয়ারি প্রথম পর্ব শেষ হবে। একইভাবে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা আগামী ১৯ জানুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হবে ২১ জানুয়ারি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসল্লিসহ দেশের অভ্যন্তরের বিভিন্ন অঞ্চলের লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ ইজতেমা ময়দানে সমবেত হবেন। এই ধর্মীয় জমায়েত নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এসকেকে/এসজিএন

Share