ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃতের সংখ্যা ১৭ জনে উন্নীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃতের সংখ্যা ১৭ জনে উন্নীত

বিএনএ, বিশ্ব ডেস্ক, ১২ জানুয়ারি : যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে কাদামাটির প্রবল প্রবাহের পর বুধবার উদ্ধারকর্মীরা হেলিকপ্টার ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরের সাহায্যে হতাহতদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এই এলাকায় অপরাহ্ উনফ্রেসহ বেশ কয়েকজন সেলেব্রিটি বাস করেন।মন্টেসিটো ও অন্যান্য শহর মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীগুলোর তীব্র ঢেউয়ের প্রভাবে কোমর সমান কাদামাটির স্রোতে তলিয়ে যায়।

পাহাড়ি ঢলে সান্তা লস অ্যাঞ্জেলসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাউন্টি সান্তা বারবারার বিভিন্ন এলাকা কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে যায়। লস অ্যাঞ্জেলসে গত মাসেই ভয়াবহ দাবানল ঘটে। স্থানীয়রা সেই ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই সর্বশেষ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিল।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় আকাশপথে ৫০ বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকজনকে সড়ক পথে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

কোন কোন এলাকায় এখনো দাবানলের ধ্বংসলীলার চিহ্ন রয়ে গেছে। সেখানে এখনো বেশ কয়েকটি বাড়িঘর সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।তবে আশপাশের বেশ কয়েকটি অক্ষত রয়েছে। পার্শ্ববর্তী কার্পিনরেরিয়ার বাসিন্দা রিচার্ড ট্রাগোনিয়া বলেন, ‘আগুনই এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ছাইভস্মগুলো পানির তোড়ে নিচে নেমে এসেছে।’

প্রথমে এসেছে দাবানল, এরপর বন্যা। বন্যার পানির তোড়ে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারা কাউন্টির  বাসিন্দারা আকস্মিক ধাক্কায় হতভম্ব হয়ে যায়। এক সাথে নেমে এসেছে হাজার হাজার টনের কাদামাটি, পাথরসহ আবর্জনারস্তুপ। এতেই চাপা পড়েছে সান্তা বারবারার অধিকাংশ বাড়ি ঘর। মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।  গত মাসে  দাবানলে ক্যালিফোর্নিয়ার বনাঞ্চলে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এতে ভূমির প্রতিরোধ শক্তির যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পারস্য উপকূল সংলগ্ন  উক্কর লস এঞ্জেলসসহ সান্তা বারবারা কাউন্টিতে হাজার হাজার বাসিন্দার বসবাস। তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অধিবাসী এ নির্দেশ মেনেছে। বাকিরা রয়ে যায় ঝুঁকিতে। ফলে যা হবার তাই হয়েছে।

জরুরি উদ্ধারকর্মী দল  নিখোঁজদের সন্ধানে লসএঞ্জেলস থেকে  আটকে পড়া অনেক লোককে উদ্ধার করেছে।

বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সানতা বারবারার ঠিক বাইরে মনটেসিটো ও কার্পেন্টেরিয়া। ভূমিধসে উপড়ে গেছে গাছ, চাপা পড়েছে  গাড়ি, পুরো এলাকা কাদামাটিতে ভরে গেছে।

প্রাণহানির সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। সান্তা বারবারার শেরিফ বলেন, খুব সহজভাবে এ ভাবে আমি বলতে  পারি এটি যেন যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থা। বিশ্ব যুদ্ধের একটি যুদ্ধ ক্ষেত্র।

উদ্ধারকারিরা চাপা পড়া বাড়িঘর থেকে আরো লোকজনকে উদ্ধার করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্ত দুই ডজন মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। আসলে প্রকৃত সংখ্রা কতো হতে পারে, তা  জানেন না শেরিফ বিল ব্রাউন নিজেই।

সম্পাদনায় : আ.হা

Share