মধুপুরে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ ও হত্যা : চারজনের মৃত্যুদণ্ড

মধুপুরে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ ও হত্যা : চারজনের মৃত্যুদণ্ড

বিএনএ, টাঙ্গাইল, ২ ফেব্রুয়ারি : টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে চারজনকে মৃত্য্যুদণ্ড ফাঁসি ও একজন আসামিকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং একলক্ষ টাকা জরিমানা করেছে আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পরিবহনের হেলপার শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীর এবং চালক হাবিবুর। আর সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে সুপারভাইজার ছবর আলীকে।

সোমবার বেলা ১২টায় টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় দেন।

রায়কে কেন্দ্র করে আদালতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি মামলার বাদির সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যদিয়ে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে মামলায় জব্দ তালিকা, সুরতহাল রিপোর্ট, চিকিৎসক, ৫ আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহনকারী ৪জন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৭জন সাক্ষীর ২৩ জানুয়ারি আদালতে সাক্ষী ও জেরা সমাপ্ত হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। বাসেই তাকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে রূপার মরদেহ ফেলে রেখে যায়।

এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় মহিলা হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রূপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করে।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে তার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে ছবির ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করেন। গত ৩১ আগস্ট রূপার লাশ টাঙ্গাইল কেন্দ্রিয় কবরস্থান থেকে উত্তোলন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়।

২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীর এবং চালক হাবিবুর ও সুপারভাইজার সফর আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার আসামিরা প্রত্যেকেই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছে।

সম্পাদনায় : আরকেসি/আ.হা

Share