ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত

ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত

।। মুহাম্মদ মহরম হোসাইন ।।

ভারতীয় বাঙ্গালি কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় কবিতায়-

শান-বাঁধানো ফুটপাথে

পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ

কচিকচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে

হাসছে।

ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত।

হ্যা আজ পহেলা ফাল্গুন। শুকনো পাতায় ভর করে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। গাছে গাছে সবুজ পাতা আর নানা রঙ্গের ফুল। শিমুল বন আর কৃষ্ণচূড়ারা সেজেছে সূর্যের সাথে তাল মিলিয়ে রক্তিম রঙে। কোকিলরা গান ধরেছে ভ্রমরের গুনগুনানির তালে তালে। চারদিকে শোনা যায় ঝড়া পাতার নিক্কন ধ্বনি। বসন্ত বারৈ খুঁজে পায় নিজের নামের স্বার্থকতা।

আজকের দিনে বিশেষ করে তরুণীরা বাসন্তি রঙের শাড়ি আর মাথায় হলুদ ফুল দিয়ে নিজেরদের নুতন করে সাজিয়ে তোলে। অন্যদিকে ছেলেরা সাজে হলুদ রঙের পাঞ্জাবিতে। গ্রাম-বাংলায় বিশেষ আয়োজনে চলে পিঠা উৎসব। আর শহরে এটি পায় বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা।

সারা পৃথিবীর ঋতু বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে এই বসন্ত ঋতু তথা ফাল্গুন মাসে দক্ষিণ এশীয় নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানেই এ সময়টি আশীর্বাদ রূপে আসে। এ সময়টা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু মানের বর্ষা হয় যার ফলে সেসব স্থানে বৃক্ষরা পত্রপল্লবে নিজেদের জানান দেয়। অন্যদিকে হীমাচল প্রদেশসহ কাস্মীর অঞ্চলের তুষারপাত ক্রমে কমে আসে এবং মানুষ তাদের স্বাভাবিক কাজকর্মের ভরসা পেতে থাকে। বসন্ত ঋতু লুকিয়ে আছে ফাল্গুন ও চৈত্র মাসের ভিতর। তবে অনুভবের জায়গা থেকে বলতে গেলে শুধু ফাল্গুন মাসের কথাই বলতে হবে। বাংলা বছর গণনায় ফাল্গুন ১১তম মাস হলেও কালের আবর্তনে এবং ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি শুধু একটি মাসের নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

 

চীনেও বসন্ত বরণ হয়ে থাকে। এই বসন্ত বরণ উৎসব হলো তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। তারা চন্দ্রপুঞ্জিকা অনুযায়ী এ উৎসব করে থাকে। তারা সিন চুন খোয়াইলা বলে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকে। যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় আপনাকে বসন্তের শুভেচ্ছা।

 

এদিকে নগরী বিভিন্নস্থানে বসন্তকে ঘিরে দিনব্যাপী পালিত হচ্ছে বসন্ত উৎসব। সকালে নগরীর সিআরবির ছায়াঘেরা শিরীষতলায়  চিরায়ত বাংলার ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করতে উৎসবের আয়োজন করেছে আবৃত্তি সংগঠন প্রমা। ডিসিহিলে চলছে বোধন আবৃত্তি সংগঠনের উদ্যেগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এছাড়া বিভিন্ন হোটেল মোটেল রেষ্টুরেন্টে রয়েছে বসন্ত প্যাকেজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মালা। পতেঙ্গা, নেভাল সড়ক, ফয়েজ লেক, স্বাধীনতা পার্ক,প্রজাপতি পার্ক,  শিশুপার্ক গুলোকে দর্শনার্থীর আকর্ষণ করার জন্য সাজানো হয়েছে রঙ্গিন সাজে।

এসজিএন

Share