সীতাকুণ্ড  তিনদিনব্যাপী শিব চতুর্দশী মেলা শুরু

সীতাকুণ্ড  তিনদিনব্যাপী শিব চতুর্দশী মেলা শুরু

বিএনএ, সীতাকুণ্ড, ১৩ফেব্রুয়ারি: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথধামে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী শিব চতুর্দশী মেলা। ইতিমধ্যে মেলাকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্নস্থানের তীর্থযাত্রীরা আসতে শুরু করেছেন।

এবারের শিব চতুর্দশী মেলা প্রায় ১০লাখ তীর্থযাত্রীর সমাগম হবে বলে ধারনা করেছেন আয়োজকরা।

সীতাকুণ্ড মেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পলাশ চৌধুরী জানান, মেলা হিসেবে পরিচিত হলেও এটি মুলত ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। চন্দ্রানাথধামে শিব চর্তুদশী মেলা তিনশত বছর ধরে হয়ে আসছে। এই মেলায় প্রতিবছর দেশ-বিদেশের অসংখ্যক তীর্থযাত্রীর সমবেত হয়ে থাকেন। তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে চন্দ্রনাথ মন্দির পযর্ন্ত আলোকসজ্জা, পানীয়জল সরবরাহ, চিকিৎসা সেবা ও পরিস্কার পরিছন্নতার ব্যবস্থাসহ তীর্থযাত্রীদের থাকার আবাসন ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বম্ভুনাথ শিব মন্দিরের পুজারী দীপক চক্রবর্তী জানান, ১৩ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ৫মিঃ ৫৬ সেকেন্ড শিব চর্তুদশী তিথি শুরু হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারী বুধবার রাত ১২টা ৩৩মিনিট ১৮সেকেন্ডে পর্যন্ত এই তিথি থাকবে। এরপর অমাবস্যা শুরু হবে। আমবস্যায় ব্যাসকুণ্ড পূর্ব পুরুষের সৎগতি কামনায় আত্নন-তর্পনাধী ও পিন্ডদান করবেন পূণ্যতীর্থ যাত্রীরা। কথিত আছে যে, ‘শিব রাত্রিতে উপবাস থেকে শিব দর্শনসহ পূজা অর্চনা করলে শিব প্রাপ্তি হয়’।

মেলা কমিটি সুত্রে জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাহাড় সীতাকুণ্ডের প্রায় ১২’শ ফুট উপরে চন্দ্রনাথ মন্দিরসহ পুরো সীতাকুণ্ড প্রায় অর্ধ-শতাধিক মঠ-মন্দির রয়েছে। বিভিন্নস্থান থেকে ছুটে আসা পূন্যার্থীরা এসব মূর্তি দর্শন ছাড়াও তর্পন, গয়াকু পিন্ডদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালনের শেষে পূন্যার্থী নর-নারীরা মেলায় মিলিত হবেন। এই মেলায় ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাসহ দেশের প্রত্যান্তঞ্চল থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী লাখ লাখ নর-নারীর সমাগম হয়ে থাকে। এই মেলার সার্বিক তত্ত্ববধানে থাকেন মেলা কমিটি ও রাইন এস্টেট।

এছাড়া স্থানীয় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।

সীতাকুণ্ড রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মতিলাল বড়–য়া জানান, সোমবার থেকে সীতাকুণ্ড স্টেশনে আন্তঃ নগর ও ঢাকার মেইল ট্রেনসহ সকল বিভাগীয় ট্রেন যাত্রা বিরতি করে তীর্থ যাত্রী উঠানামা করছে।

সীতাকুণ্ড পৌরসভার মেয়র আলহাজ বদিউল আলম জানান,এবার মেলায় পৌর কর্তৃপক্ষের ৫০ স্বেচ্ছাসেবক তীর্থযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসান জানান, গতবারের মতো এবারও মেলায় তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মেলা প্রাঙ্গণে র‌্যাবের অস্থায়ী একটি ক্যাম্প বসানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ান ও আনসার বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। তবে তিনি মেলায় বিনোদনের নামে অশ্লীল নৃত্য, ভ্যারাইটি শো ও জুয়া খেলা চলতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

এবিষয়ে মেলা কমিটির কার্যকরী সভাপতি ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল ইসলাম ভুইয়া জানান, ‘মেলা আয়োজনে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মেলাঙ্গন সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। মেলায় বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনার কোন সম্ভাবনা নেই। তবে কেউ যদি বিঘ্ন সৃষ্টি করে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন ধর্মীয় কাজ শান্তিপুর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পারে সেদিকে দৃষ্টি থাকবে। তিনি মেলা সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রতিনিধি:সবুজ শর্মা শাকিল,সম্পাদনায়:এফএএস/এসনজিএন

 

 

 

Share