একরাম হত্যা মামলার রায়ে ৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড,খালাস ১৬

একরাম হত্যা মামলার রায়ে ৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড,খালাস ১৬

বিএনএ,ফেনী, ১৩মার্চ:  ফেনী ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরাম হত্যা মামলায়  জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক জাহটঙ্গীর কবির আদেলসহ ৩৯ জনের ফাঁসি ও ৫০ হাজার টাকা জরিমান করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হকের আদালতে  এ  রায়  ঘোষনা করা হয়েছে ।

এদিকে এই মামলায় বিএনপির জেলা তাতী দলের আহ্বায়ক মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনার ও ফেনী পৌর যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক জিয়াউল আলম মিষ্টারসহ ১৬ জনকে বেকসুর খালাস দিয়ে রায় ঘোষনা করেছে আদালত।

মঙ্গলবার দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে  ফেনী কারাগার থেকে ৩৬ জন আসামীকে  কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আদালতে হাজির করা হয় । বেলা ৩ টা ১৫ মিনিটে বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। বেলা  ৩ টা ৪০ মিনিটে রায় পড়া শেষ করেন। ফাঁসির আদেশ প্রাপ্ত ৩৯ জনের মধ্যে ৯ জন পলাতক রয়েছে। খালাস প্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে ২ জন পলাতক রয়েছে।দণ্ড প্রাপ্ত সকল আসামীকে কারগারে  প্রেরনের নির্দেশ দেন বিচারক।

এ মামলার ১৯ জন চার্জসীটভুক্ত  আসামী পলাতক রয়েছে। এদের  মধ্যে  ১০ জন জামিনে এসে পালিয়ে গেছে  এবং  ৯ জন  শুরু থেকে পলাতক রয়েছে। মামলায় ৫৬ জনরে বিরুদ্ধে  চার্জসীট দেয় তদন্তকারী কর্মকর্তা । চার্জসীট ভুক্ত আসামী  রুটি সেহেল  জামিনে করাগার থেকে  বের হওয়ার  পর  গত ৩ জুলাই ২০১৭ র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে (ক্রস ফায়ারে) মারা যায়।

ঘটনার ১০০ দিনের মাথায় ২৮ আগষ্ট ২০১৪  গ্রেফতার হওয়া ও পলাতক মিলিয়ে ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে চার্জসীট জমা দেয়।

চার্জসীটভুক্ত ৫৬ জনের মধ্যে জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহব্বয়ক জাহাঙ্গীর কবির আদেল, পৌরযুবলীগের যুগ্ন আহব্বায়ক জিয়াউল আলম মিষ্টার এর নাম রয়েছে । আদালত ১২ নভেম্বর ২০১৪  চার্জসীট গ্রহন করে।মাহতাব উদ্দিন মিনার , শিবলু উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিলেও  আপিলে তা স্থগিত হয়ে যওয়ায়  কারাগার থেকে বের হতে পারেনি।

এ মামলায় ৫৯ জন স্বাক্ষীর মধ্যে বাদী এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ৫০ জন স্বাক্ষী আদালতে স্বাক্ষ্য প্রদান করে। মামলার চার্জসীটভুক্ত ৫৬ জনের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৬ জন এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে আদালাতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধী দিয়েছে। আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করা ১৬ জনের মধ্যে  হেলাল উদ্দিন নামে একজন পরে রাষ্ট্র পক্ষে স্বাক্ষ্য প্রদান করে। মামলার সরকারী কৌশলী (পিপি) এডভোকেট হাফেজ আহম্মদ জানান মামলার স্বাক্ষীরা একরামুল হক একরামের গাড়ীর গতিরোধ, গুলি ,কুপিয়ে ও গাড়ীতে অগুন দিয়ে হত্যার লোমহর্ষক বর্ননা দিয়েছে। আসামী পক্ষের আইনজীবিরা তাদের যুক্তিতকে নির্দোষ দাবী করেন।

উল্লেখ্য ২০১৪ সালের  ২০ মে সকালে ফেনী শহরের একাডেমী এলাকায় ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামকে  ফুলগাজী যাওয়ার পথে  নিজদলীয ক্যডাররা তাকে কুপিয়ে গুলি করে তার গাড়ীতে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ায় একরামের লাশ তাৎক্ষনিক সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় অগ্নিদ্ধ কংকাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিএনএ টেস্টে পাঠানো হয়। সেখানে একরামের লাশ সনাক্ত করা হয়॥ রাতেই লাশ ফেনীতে একরামের মাষ্টরপাড়ার বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরদিন ফেনী মিজান ময়দানে প্রথম নামোজে জানাজা  ও পরে  আনন্দপুর স্কুল মাঠে  ২য় জানাজা শেষে তার আনন্দপুর  গ্রামের বাড়ীর সামনে দাফন করা হয়। হত্যার প্রতিবাদে ফুলগাজী উপজেলাবাসী হরতাল,অবরোধ,বিক্ষোভ সহ মাসাদিকাল লাগাতার বিভিন্ন কমর্সূচি পালন করে।

ঘটনার পরপর ২০ মে রাতে  পুলিশ শহরের বিরিঞ্চি এলাকা সহ বিভিন্ন স্থান থেকে ২৩ জনকে আটক করে । পরে ২১ জনকে মুসলেকা দিয়ে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। এখান থেকে ২ জনকে একরাম হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তৎকালনি পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ মামলার অগ্রগতি হচ্ছে আটককৃতদের জিঞ্জাসাবাদে মুল ঘটনা বের হবে বলে সাংবাদিকদের জানান। সময় পর না হতেই  হঠাৎ করে  চিত্র ও দৃশ্যপট পাল্টে যায়। ভিডিও ফুটেজের সুত্র ধরে  ২৩ মে রাতে র‌্যাব ঢাকার উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একরাম হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে ৮ জনকে আটক করে।

আটককৃতরা র‌্যাবের কাছে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ফেনী থানা পুলিশ তাদের ঢাকা র‌্যাব এর কাছ থেকে ফেনী  এনে ২৫ মে রাতে আদালতে  হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করে। রিমান্ডে থাকা আসামীদের দেয় তথ্য প্রচার হলে ফেনী পৌর সভার কাউন্সিলর আবদুল্লা হিল মাহমুদ শিবলু সেচ্ছায় ফেনী থানায় আত্মসমর্পণ করে। একই সময়ে জাহিদ চৌধুরী নিজেকে আত্মসমর্পণ করেছে বলে জানালেও পুলিশ জাহিদ চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপির  জেলা তাঁতী দলের  আহব্বায়ক ও ফুলগাজী উপজেলা নির্বাচনে একরামের প্রতিদন্ধী প্রার্থী মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনারকে ২৬ জুলাই রাতে ঢাকায় ডিবি পুলিশ মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে  গ্রেফতার কারে ফেনী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

একরাম হত্যার ঘটনায় একরামের ছোট ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপির জেলা তাতী দলের  আহব্বায়ক ও ফুলগাজী উপজেলা নির্বাচনে একরামের প্রতিদন্ধী প্রার্থী মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনারের নাম  উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩৫/৪০ জনের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ এই  মামলার সুত্র ধরে হত্যা মামলার অধিকাংশ আসামীকে ডিবি পুলিশ, থানা পুলিশসহ  র‌্যাব, ঢাকা, চট্রগ্রাম ,খাগড়াছড়িসহ ফেনীর বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়েছে।

আরকেসি/এফএএস

 

 

Share