এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা

এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা

বিএনএ, ঢাকা, ১৩ মার্চ : জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট দুর্নীতি মামলায়  হাইকোর্ট থেকে চারমাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন পেলেও এখনই মুক্তি পাবার সম্ভাবনা নেই খালেদা জিয়ার।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের দেয়া জামিন আটকাতে চেম্বার আদালতে আবেদন করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি শেষে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ‘নো অর্ডার’ দিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

আগামীকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এর ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এরই মধ্যে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন গ্রহণ করে সোমবার তার বিরুদ্ধে হাজিরা পরোয়ানা জারি করেছেন কুমিল্লার আমলি আদালত ৫ এর  জৈষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম হাকিম মুস্তাইন বিল্লাহ। এরই মধ্যে তাকে ২৮ মার্চ কুমিল্লার আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এক মামলায় জামিন পেলেও অন্যান্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে  খালেদা  জিয়ার মুক্তি আটকে দেবার সম্ভাবনা থাকছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হাইকোর্ট জামিনের আদেশ দিলেও অন্যান্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে পিছিয়ে যেতে পারে খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা।

তবে মামলাটি রাজনৈতিক বলে সরকারের  সদিচ্ছার কথাও বলেছেন বিশ্লেষকরা। যে কারণে সোমবার  বিচারক  ইনায়েতুর রহিম ও সহিদুল করিমের বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন। তা হলো, সাজার মেয়াদ,নিম্ন আদালত থেকে নথি আসা,আপিল শুনানির  জন্য পেপার বুক তৈরিতে সময় লাগা, বিচারের সময় জামিনে থাকা ও ৭৩ বছর বয়স বিবেচনা।

প্রসঙ্গত, দুদক ও অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর থেকে জামিন স্থগিত চেয়ে মঙ্গলবার চেম্বার আদালতে আলাদা আবেদন করা হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে এতিমখানা দুর্নীতি মামলার রায়ের পর থেকে গত ৩২ দিন ধরে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

নিম্ন আদালত থেকে ওই মামলার নথি হাইকোর্টে আসার পর তা দেখে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার দুপুরে তাকে চার মাসের জামিন মঞ্জুর করে।

সেই সঙ্গে তার আপিল শুনানির জন্য ওই সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে পেপারবুক তৈরি করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে আপিল শুনানি শুরুর আদেশ চাইলেও হাইকোর্ট চারটি যুক্তিতে জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে এতিমখানা দুর্নীতি মামলার রায়ের পর থেকে গত ৩২ দিন ধরে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

নিম্ন আদালত থেকে ওই মামলার নথি হাইকোর্টে আসার পর তা দেখে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার দুপুরে তাকে চার মাসের জামিন মঞ্জুর করে।

সেই সঙ্গে তার আপিল শুনানির জন্য ওই সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে পেপারবুক তৈরি করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে আপিল শুনানি শুরুর আদেশ চাইলেও হাইকোর্ট চারটি যুক্তিতে জামিন মঞ্জুর করেন।

এগুলো হলো- ১. নিম্ন আদালত পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছে, এ সাজায় হাইকোর্টে জামিনের রেওয়াজ আছে। সে বিবেচনায় তিনি জামিন পেতে পারেন। ২. বিচারিক আদালতের নথি এসেছে, কিন্তু আপিল শুনানির জন্য এখনও প্রস্তুত হয়নি। ফলে আসামি জামিনের সুবিধা পেতে পারেন। ৩. বিচারিক আদালতে মামলা চলাকালে খালেদা জিয়া জামিনে ছিলেন; এর অপব্যবহার করেননি। আদালতে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন। ৪. বয়স এবং বয়সজনিত শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় নিয়ে তাকে জামিন দেয়া যায়।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম সোমবারই বলেছিলেন, তারা হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধ চেম্বার আদালতে যাবেন।

সম্পাদনায় : আ.হা

 

Share