কাঠমাণ্ডু ট্র্যাজেডি : পাইলটের সঙ্গে  শেষ কথোপকথন

কাঠমাণ্ডু ট্র্যাজেডি : পাইলটের সঙ্গে শেষ কথোপকথন

বিএনএ, ঢাকা, ১৩ মার্চ : ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি ল্যান্ড করার আগে ত্রিভুবন বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের কথোপকথনের একটি রেকর্ড ইউটিউবে প্রচার হয়েছে।

ওই কথোপথনের শুরুতে বিমানের পাইলট জরুরি অবতরণের নির্দেশনা চান। একপর্যায়ে টু জিরো রানওয়েতে অবতরনের অনুমতি পান। ওই মুহূর্তে কন্ট্রোল রুম থেকে বলা হয়, ‘ডু নোট প্রসিড টুয়াওয়ার্ডস ফ্রম দি টু জিরো। ক্লিয়ার টু হোল্ড।’ পাইলট বলেন, ‘মেকিং এ রাইট হোল্ডিংস। উই আর গেট ল্যান্ডিং।’ কন্ট্রোল রুম থেকে বলা হয়, ‘বাট ডু নোট ল্যান্ড। ইউ ক্যান হোল্ড এ প্রেজেন্ট পজিশন। রানওয়ে টু জিরো।’ পাইলট বলেন, ইউ লাইক টু ল্যান্ড টু সিক্স জিরো।’ কন্ট্রোল রুম থেকে বলা বলা হয়, ‘ওকে ল্যান্ড’। পাইলট বলেন, ‘টু সিক্স জিরো কমপ্লিটলি ল্যান্ড।’ কন্ট্রোল রুম থেকে বলা হয়, ‘কনফার্ম ইউ রানওয়ে সাইট।’ পাইলট বলেন, ‘নেগেটিভ স্যার।’ কন্ট্রোল রুম থেকে বলা হয়, ‘বাংলা স্যার ২১১ টার্ণ রাইট। কনফার্ম ইউ এভ রানওয়ে নট ইন সাইট? ক্যান ইউ হোল্ড প্রেজেন্ট পজিশন?  আই সে এগেইন টার্ণ।’ বিমান দুর্ঘটনার তিন মিনিট আগে থেকে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে পাইলটের কথোপথন হয়। পাইলট কন্ট্রোলরুমের কাছে নিরাপদ অবতরণের নির্দেশনা চান। ওই মুহূর্তে কন্ট্রোল রুম থেকে কোন রানওয়েতে অবতরণ করবে সে ব্যাপারে নির্দেশনা দিতে বিলম্ব করা হয়। এমনকি ল্যান্ড করার পরও পাইলটকে আবারও নির্দেশনা দেয়া হয়।

নেপালের ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুম থেকে এরকম কথোপথন থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কারণেই ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহের কথা জানিয়েছেন ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আফিফ।

তিনি দাবি করেন, এ দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলটের কোনও গাফিলতি ছিল না। সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বারিধারায় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করতে গিয়ে ইমরান আফিফ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের ফ্লাইটটি অবতরণ করার আগের তিন মিনিটের একটি কথোপকথন আমাদের হাতে এসেছে। ফ্লাইটের পাইলটের সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের যে কথা হয়, তা রয়েছে ওই কথোপকথনে। এটা থেকে আমরা ধারণা করছি, দুর্ঘটনায় আমাদের পাইলটের দিক থেকে কোনও গাফিলতি ছিল না।

সিইও ইমরান আফিফ আরও বলেন, ফ্লাইট অবতরণের আগে কাঠমান্ডুর কন্ট্রোল রুম থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে। কোন রানওয়ে দিয়ে অবতরণ করতে হবে, সে সম্পর্কে ওই তিন মিনিটের কথোপকথনে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দেওয়া হয়েছে। অবতরণের তথ্য সঠিকভাবে না দেওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইও আরো বলেন, দুর্ঘটনার শিকার বিমানটি ১৬ বছর আগে ক্রয় করা। এতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। এরকম মডেলের ৪টি বিমান রয়েছে আমাদের। সবগুলোই ফ্লাই করে। ফ্লাইটের পাইলটের বিষয়ে তিনি বলেন, ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান আহত হয়েছিলেন। তিনিও আজ সকালে মারা গেছেন।

আবিদ এক্স এয়াফোর্সের পাইলট। তিনি তার ক্যারিয়ারে তার ফ্লাইং আওয়ার ৫ হাজারের বেশি। এই এয়ারক্রাফটে তিনি ১৭শ’ ঘন্টারও বেশি ফ্লাই করেছেন। তিনি এই এয়ারক্রাফটের একজন ইন্সট্রাক্টর। আমাদের কাছে মনে হচ্ছেনা বৈমানিকদের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি ছিল।

সম্পাদনায় : আরকেসি/আ.হা

Share