শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের দাবী চবি ছাত্রসেনার

শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের দাবী চবি ছাত্রসেনার

বিএনএ,চট্টগ্রাম,১৫মে ২০১৮: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এর উদ্যোগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জিরো পয়েন্টে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের দাবিতে মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার সাধারণ সম্পাদক  ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে অপর্যাপ্ত বাজেটের দরুণ এদেশে শিক্ষার্থীরা গবেষণায় পিছিয়ে পড়ছে। এদেশে প্রথম স্যাটেলাইট “বঙ্গবন্ধু-১” তৈরিতে বাংলাদেশী কোন গবেষকের অবদান না থাকা এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লজ্জ্বাজনক। তিনি আরো বলেন, শিক্ষা ও গবেষণা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার আন্দোলন স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত হওয়া একটি দেশ শিক্ষা খাতে সরকারের উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ।

উদ্বোধক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মোক্তার আহমদ সিদ্দিকী বলেন, বাজেট একটি দেশের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের খতিয়ান। এ কারণে এটি যেন ভারসাম্যমূলক, কার্যকর ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক সুফল বয়ে আনে, তা নিশ্চিত করতে হবে সবার আগে।

প্রধান বক্তা ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও চবি সেনার সাবেক সভাপতি দিদার কাদেরী বলেন-দেশ যেহেতু উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে তাই দেশকে উন্নতির পথে নিতে হলে অনুৎপাদনশীল খাতের চেয়ে উৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ-ব্যয় বাড়াতে হবে। আর শিক্ষা খাত হলো সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীল ও টেকসই খাত। তাই এ খাতে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে এবং বরাদ্দকৃত অর্থের সুষ্ঠ ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে। তিনি শিক্ষাখাতে মোট জাতীয় আয়ের ৮ ভাগ ও ৩০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসেনার সভাপতি মুহাম্মদ ইদ্রিস কাদেরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মামুনুর রশীদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনের বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সভাপতি ছাত্রসেনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যুবনেতা মুহাম্মদ এমরানুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক চবি যুবনেতা আব্দুর রাসুল, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল হামিদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছাত্রসেনা চবি’র সাবেক সহ সভাপতি ছাত্রনেতা হেলাল উদ্দীন চৌধুরী। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন চবি ছাত্রসেনার সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা মামুনুর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম রানা, শহীদুল ইসলাম, মুরাদ হোসেন, আবদুল্লাহ আল জাবের, আবু নাহিয়ান সহ অনুষদ নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার পণ্যায়ন হচ্ছে। লাগামহীন শিক্ষাবাণিজ্য ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিবর্তে দ্বিগুণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়ে সরকার শিক্ষাকে সম্পূর্ণরূপে বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছে। এতে করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। বক্তারা বলেন, ইউনেস্কো ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষাখাতে বরাদ্দ প্রদানের দাবি জানিয়ে বলেন, শিক্ষা আর প্রযুক্তিকে একীভূত না করে শিক্ষাকে স্বতন্ত্র খাত উল্লেখ পূর্বক বরাদ্দ দিয়ে পাশাপাশি গবেষণা কর্মে উৎসাহিত করার দাবি জানানো হয়।

এসজিএন

 

 

 

 

Share