কুমিল্লার অংশে গতি থামিয়ে দিচ্ছে দুই সেতু আর টোলপ্লাজা

কুমিল্লার অংশে গতি থামিয়ে দিচ্ছে দুই সেতু আর টোলপ্লাজা

বিএনএ, কুমিল্লা, ১৬মে: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ‘লাইফলাইন’ উপাধি পেলেও এর গতি থামিয়ে দিচ্ছে কুমিল্লার দুই সেতু আর টোলপ্লাজা। দুই লেনের মেঘনা ও গোমতী সেতু আর টোলপ্লাজাকে ঘিরেই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। স্থবির হয়ে পড়ছে মহাসড়ক। বাড়ছে ভোগান্তি-দুর্ভোগ।

সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া যানজটের দুর্ভোগ লাঘব করা যাচ্ছে না কিছুতেই । কেবল দীর্ঘ হচ্ছে থেমে থাকা গাড়ির লাইন। বাড়ছে ভোগান্তিতে পড়া যাত্রী ও চালকের সংখ্যা। তার উপর বুধবার সকালে গজারিয়ায় পণ্যবাহী ট্রাক উল্টে গিয়ে যানজটে যোগ করেছে ‘নতুন মাত্রা’।

ফলে চট্টগ্রামমুখী যে লেনটি দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। আর টোলপ্লাজার দুই অংশে প্রায় ৫৫-৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে, চান্দিনার মাধাইয়া থেকে দাউদকান্দি সেতু এলাকা পর্যন্ত ঢাকাগামী লেনে যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

যানজটে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। ১০ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগছে ২/৩ ঘণ্টারও বেশি। এসময় ছোট শিশু, ভারী ব্যাগ ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের নিয়ে ১০/১৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে যেতে দেখা গেছে যাত্রীদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে যাত্রী ও চালকরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। দীর্ঘ এ যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন গৌরীপুর হাসানপুর ডিগ্রি কলেজের স্নাতক পরীক্ষার্থীরা।

সকাল ৯টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলেও সোয়া ৯টা পর্যন্ত তাদেরকে দাউদকান্দিতেই এদিক/সেদিক দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। পরে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় সড়কের উল্টো লেন দিয়ে তাদের অনেককে কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হয়।

এ মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রী ও চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঢাকায় যেতে কিংবা ঢাকা থেকে ফিরতে তাদের আতঙ্ক কেবল এই দুই সেতু আর টোলপ্লাজাকে ঘিরে। পুরো সড়কে আপন গতিতে ছুটতে থাকা গাড়িগুলো টোলপ্লাজা এলাকায় এসে ‘পিপিলিকা’ হতে হতে একসময় একেবারেই থেমে যায়।গাড়ির এ চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মহাসড়ক পুলিশকেও। ‘মাথা ঘুরেযাচ্ছে’ কর্মকর্তাদের। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় তাদের। কখনো কখনো শুকনো খাবার-পানীয় তুলে দিচ্ছেন চালকদের হাতে।

অপর দিকে, মঙ্গলবার দুপুরে দাউদকান্দির গৌরীপুরে চালকদের মাঝে খাবারের প্যাকেট বিলি করতে দেখা যায় মহাসড়ক পুলিশের দাউদকান্দি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহিদুল ইসলামসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্যদের। দাউদকান্দির দুই সেতু আর টোলপ্লাজা অংশ বাদ দিলে এ মহাসড়কের পুরোটাতেই গাড়ি চলছে স্বাভাবিক গতিতে। বিষয়টির সাথে একমত পোষণ করেছেন মহাসড়ক পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, চার লেনের মহাসড়কে দুর্দান্ত গতিতে ছুটে আসা যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়িগুলো থমকে দাঁড়ায় দুই লেনের সেতুতে উঠতে গিয়ে। তার আগে আবার টোলপ্লাজায় সময় যায়।

তিনি যুক্তি দেখান, ‘টোল আদায়ে একটি গাড়িতে যদি ১ মিনিট সময় ব্যয় হয়। ওই এক মিনিটে কিন্তু আরো ২০/৩০টি গাড়ি সেখানে জড়ো থাকে। এভাবেই সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে গাড়ি, বাড়ে যানজট। একইভাবে দুই লেনের সেতুতে উঠতেও গাড়ির গতি একেবারেই কমিয়ে ফেলতে হয়। সুতরাং ধীরগতির এ লাইন কেবলই লম্বা হয়।

মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও যানজট নিরসনে তাদের করণীয় কিছু নেই দাবি করে নজরুল ইসলাম বলেন, এতো গাড়ির চাপ সৃষ্টি হয়েছে মূলত টোলপ্লাজা ও সেতুর কারণে। সেখানে ‘গতি’ না আসলে পুলিশ কিছুই করতে পারবে না।

এখানে যারা দায়িত্ব পালন করছে, তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে গাড়ির শৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকতে। ফাঁকা লেনে যেন মাথা না ঢুকিয়ে দেয়-সেদিকে লক্ষ্য রাখতে। গাড়িগুলো শৃঙ্খলায় থাকলে অচিরেই এ সমস্যা কেটে যাবে।  দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, মহাসড়কে হঠাৎ করে গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় এ যানজট তৈরি হয়েছে। এছাড়াও দাউদকান্দির টোল প্লাজায় একসঙ্গে এত যানবাহনের ওজন নিয়ন্ত্রণ, টোল আদায় ও চলাচলের পাসিং দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। তাই যানজট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে জেলা ও দাউদকান্দি থানা পুলিশের সাথে সমন্বয় করে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে।

আরকেসি/এফএএস

 

Share