নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্য আটক

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্য আটক

বিএনএ, মানিকগঞ্জ, ১১ জুলাই : মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের মিডিয়া উইংয়ের  অন্যতম সমন্বয়ক এবং সক্রিয় সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাককে আটক করেছে র‌্যাব-৩। মঙ্গলবার রাতে সিংগাইরের ইরতা গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব জানায়, ইসহাকের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাতায়াত ছিল। তিন থেকে চার বার ক্যাম্পে গিয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তাও করতেন তিনি। এসব সামাজিক কাজের আড়ালে রোহিঙ্গাদের মধ্যে জঙ্গি মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন।

বুধবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ার বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. এমরানুল হাসান বলেন, ইসহাক আনসার আল ইসলামের মিডিয়া উংয়ের অন্যতম সমন্বয়ক। তার দায়িত্ব ছিল বিভিন্ন উগ্রবাদী লিখনি ও প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করা। আনসার আল ইসলামের আধ্যাত্মিক নেতা জসীমুদ্দীন রহমানীর নির্দেশে সে এসব কাজ করত।

তিনি বলেন, ইসহাক ‘খান’ ও ‘মাকবুল’ নামক প্রকাশনী থেকে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী বই প্রকাশ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় সরবরাহ করে। বাংলাবাজারের ইসলামী টাওয়ারে তার প্রকাশনী অফিস রয়েছে। এছাড়াও ইউটিউবে এমডি ইসহাক খান নামে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী লেকচারের অডিও ক্লিপ রয়েছে। লাইট হাউজ ডট কম নামীয় ব্লগ পেইজে সে তার উগ্রবাদী মতবাদ প্রচারনা করে থাকে। সে গাজওয়াতুল হিন্দ এ বিশ্বাস করে। মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মারকাজুল কোরআন ওয়াল হিকমাহ নামে সে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছে। ওই মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্রদের মাঝে সে উগ্রবাদে প্রচারনা করছে। এছাড়াও আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন সদস্যদের নিয়মিত বৈঠক তার বাসায় অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, ইসহাক সংগঠনের পক্ষে উগ্রবাদী লেখনির মাধ্যমে যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে কর্মী সংগ্রহ ও প্রচারনায় লিপ্ত ছিল। মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক খান ২০০৬ সালে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিস পাস করে। এ সময় তার শিক্ষক আনসার আল  ইসলামের আধ্যাত্মিক নেতা জসীমুদ্দীন রাহমানীর সংস্পর্শের আসে। পরে জসীমউদ্দীন রাহমানীর নৈকট্যে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে উগ্রবাদী প্রচারনা ও দাওয়াতে অংশগ্রহণ করতে থাকে। ইসহাক এ সময় খান প্রকাশনী নামে একটি নিজস্ব প্রকাশনী সংস্থা স্থাপন করে জসীমুদ্দীন রাহমানীর বিভিন্ন উগ্রবাদী লেকচার ও মতাদর্শ বই আকারে প্রকাশ করে আসছিল। পরে ২০১৩ সালে জসীমুদ্দীন রহমানী গ্রেফতার হলে আত্মগোপনে চলে যায় ইসহাক। আত্মগোপনরত অবস্থায় ইসহাক বেনামী প্রকাশনার নাম দিয়ে জসীমুদ্দীন রাহমানী ও আনওয়ার আল আওলাকীসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিতর্কিত ধর্মীয় নেতার উগ্রবাদী বইসমূহ সংকলন করে প্রকাশ করতে থাকে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ইসহাক র‌্যাবকে জানিয়েছে, সে আনওয়ার আল আওলাকী ও জসীমুদ্দিন রাহমানীর মতবাদে বিশ্বাসী। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সে বিশ্বাসী নয়, সে সরিয়া আইনে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাসী। এছাড়া সেই গাজাওতুল হিন্দেও বিশ্বাসী ছিল। সেই লক্ষ্যে উগ্রবাদী বই সংকলিত করে কোমলমতি যুবকদের জঙ্গিবাদের আগ্রহ বাড়াতে ইন্টারনেটে বিভিন্ন পেইজে পোস্ট করত।

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক আরো বলেন, ইউটিউবে এমডি ইসহাক খান নামে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী লেকচারের অডিও ক্লিপ রয়েছে। লাইট হাউজ ডট কম নামীয় ব্লগ পেইজে সে তার উগ্রবাদী মতবাদ প্রচারণা করত। এছাড়া উগ্র মতবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মানিকগঞ্জে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে। এছাড়া ইসহাকের ভাই মো. আশরাফ আলী খান আনসার আল ইসলামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তার আরেক ভাই রাকিব নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীর সক্রিয় সদস্য এবং বর্তমান জেল হাজতে আছে।

বিএনএ/এসকেকে/এইচ.এম।

 

 

Share