মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন

এক নজরে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা


বিএনএ,ঢাকা: ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে  রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সন্ত্রাস বিরোধী এই সমাবেশ ডাকে আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা। কিন্তু সেই সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশই আক্রান্ত হয় নজিরবিহীন সন্ত্রাসী হামলার। শেখ হাসিনার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে হঠাৎ বিষ্ফোরণে কেপে ওঠে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ।

পর পর ১২টি গ্রেনেডের বিষ্ফোরণে লন্ডভন্ড হয়ে যায় সব। নিহত হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন। আহত হন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাসহ অসংখ্য নেতা-কমী ও সমর্থক।

তবে ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে ঘিরে রাখেন শেখ হাসিনাকে। এক পর্যায়ে নিজের বুলেট প্রুফ গাড়িতে করে দ্রুত সরিয়ে নেয়া হয় তাকে। সে সময় তার গাড়িতেও স্নাইপার রাইফের দিয়ে গুলি করা হয়।

এ ঘটনায় মামলা হলেও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে তদন্ত ভিন্ন খাতে নিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে ২০০৭ সালে ক্ষমতার পালাবদলে তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই মূলত এই গ্রেনেড হামলায় চার দলীয় জোট সরকারের সংশ্লিষ্ঠতা ধরা পড়ে।

২০০৮ জুনে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন আহমদ, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। এতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যেই হয় হামলা চালানো হয়েছিল। শুরু হয় বিচারকাজ।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অধিকতর তদন্তের আবেদন করা হয়। ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন সিআইডির কর্মকর্তা আব্দুল কাহহার আকন্দ। এতে তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রি লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ নতুন ৩০ জনকে আসামি করা হয়। আসামি করা হয় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎকালীন সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদেরও।

হত্যা ও বিষ্ফোরক আইনের দুই মামলায় আসামি করা হয় মোট ৫২ জনকে। পরে অন্য মামলায় মুজাহিদ, মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড হলে এই মামলা থেকে তাদের নাম বাদ পড়ে। আসামিদের মধ্যে তারেক রহমানসহ   ১৮ জন পলাতক রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে আছেন।

এদিকে, আলোচিত এই মামলার বিচারকাজে সময় লাগলেও রায়ের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আইভি রহমানের ছেলে নাজমুল হাসান পাপন। প্রকৃত দোষীদের চূড়ান্ত সাজা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আর করিম চৌধুরী/এসজিএন


newssbna-ad
newssbna-ad
ওয়েব সাইটে প্রকাশিত কোন প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও মতামত এর জন্য সম্পাদক কোন ভাবে দায়ী নন