শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

বিকাশে প্রতারণা বাড়ছে : দায় কার?


বিএনএ, চট্টগ্রাম : রাসেলের মোবাইলে বুধবার সকালে একটি ফোন আসে। ফোনের ওপাশে থাকা ব্যক্তি বিকাশ থেকে ফোন দিয়েছে জানিয়ে বলেন, আপনার ন্যাশনাল আইডি দিয়ে আরো দুইটা একাউন্ট রেজিষ্ট্রেশন করা আছে। তাই আপনারটা আপাতত ব্লক লিস্টে আছে। আপনারটা রেখে অন্য দুইটা বন্ধ করে দেয়ার জন্য কিছু ইনফরমেশন দরকার।

ইনফরমেশন দেয়া হলে ওপাশ থেকে জানানো হয়, আপনার মোবাইলে একটা ছয় ডিজিটের পিন গেছে। সেটা জানান। রাসেল অফিসিয়াল ফোন মনে করে, পিন নাম্বারটা জানান।

কিছুক্ষণের মধ্যে রাসেল বুঝতে পারেন তার একাউন্ট থেকে ২৫১৭ টাকা অন্য নাম্বারে চলে গেছে। নিজের বোকামীর কারণে এতগুলো টাকা চলে গেল ভেবে হতাশ হন।

বিকাশের মাধ্যমে এ ধরণের প্রতারণা বেড়েই চলছে। এসব ঘটনায় বিকাশ কর্তৃপক্ষও খুব একটা সহযোগিতা করতে পারে না। তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে বলে। দীর্ঘসূত্রিতায় পড়বেন ভেবে অনেকে আর অভিযোগের পথে যান না।

রাসেল তার প্রতারিত হওয়ার এ ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়ে জানতে চান, এখন কি করতে পারেন?

ওই স্ট্যাটাসে আরও কয়েকজন জানিয়েছে তাদের কাছেও এ ধরণের ফোন এসেছিল। কেউ কেউ আগে থেকে ব্যাপারটি জানতেন বিধায় পাত্তা দেননি। তবে কেউ কেউ যারা আগে জানতেন না তাদের কিছু টাকা হারাতে হয়েছে।

ওই স্ট্যাটাসে কল্পতরু নামে একজন কমেন্ট করেছেন, “.. আমার ফ্রেন্ডের ৪৮ হাজার টাকা নিয়ে গেছে এভাবে.. টাকাগুলো ওর বাচ্চার চিকিৎসার টাকা ছিল, বিকাশ থেকে বলা হয়েছিলো ওরা কিছু করতে পারবে না, পুলিশের হেল্প লাগবে, সেটা আর চেষ্টা করা হয়নি।”

জেসমিন আক্তার নামে একজন লিখেন, গত পরশু বিকাশ করতে গিয়ে দোকানে এমন একটি ঝামেলায় পড়া একজনের কথা শুনলাম। তার মানে সত্যি এটা ঘটছে।

হাসিবুর রহমান হিমু নামে একজন জানান, তার একাউন্টে ৪৬৮৫ টাকা ছিল। এ ধরণের প্রতারণায় পুরা টাকাই হারাতে হয়েছে।

যে নাম্বার থেকে (০১৩১৬৩৫২৬৩৪) রাসেলকে ফোন করে এ প্রতারণা করা হয় এই প্রতিবেদন লেখার সময় ওই নাম্বারে ফোন দিয়ে দেখা যায়, ফোনটি বন্ধ আছে।

রাসেল জানায়, নাম্বারটি ০১৩ দিয়ে শুরু হওয়ায় তিনি মনে করেছিলেন এটা অফিসিয়াল নাম্বার। তার জানা ছিল না গ্রামীণ ফোনের নতুন সিরিজ নাম্বার ০১৩ দিয়ে শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, ‘০১৭’ সিরিজের প্রায় ১০ কোটি নম্বর শেষ হয়ে আসছে জানানোয় তাদের নতুন সিরিজের নাম্বার দেয় বিটিসিএল।

জানা গেছে, ভুল করে টাকা চলে গেছে বলে আকুতি মিনতি করেও বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। এক্ষেত্রে যে ফোন করে তার নাম্বার থেকেই আগে মেসেজ যায় এত টাকা এসেছে বলে। গ্রাহক সচেতন না হলে সেটা বিকাশ অফিস থেকে এসেছে মনে করে সত্য ভাবেন। টাকা ফিরিয়ে দেয়ার পর বুঝেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

বিকাশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের একটিই নাম্বার ১৬২৪৭। অন্য কোন নাম্বার থেকে বিকাশ কখনও গ্রাহকদের ফোন দেয় না।

বিকাশ জানিয়েছে, কারো একাউন্টে ভুলে বা প্রতারিত হওয়ার কারণে টাকা চলে গেলে গ্রহণকারীর অনুমতি বা আদালতের নির্দেশনা ছাড়া পাঠানো টাকা প্রেরককে ফেরত দেয়ার এখতিয়ার বিকাশ-এর নেই।

বিকাশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রতারণা থেকে বাঁচতে হলে প্রথমে সতর্ক হতে হবে। এজন্য নিজের একাউন্ট ব্যালেন্স এবং পিন কোড নাম্বার কখনই কাউকে বলা যাবে না।

অন্য কেউ টাকা পাঠানোর কথা বললে ম্যাসেজ চেক না করে ব্যালান্স চেক করতে হবে। যত ম্যাসেজই আসুক না কেন আগে ব্যালান্স দেখতে হবে যে টাকা যোগ হয়েছে কিনা। চেক না করে কাউকে টাকা পাঠানো যাবে না। কারো প্ররোচনায় পরে লটারি জেতার নাম করে কাউকে টাকা পাঠাবেন না। যে কোন প্রয়োজনে ১৬২৪৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে।

বিএনএ/হাসান মুন্না।


newssbna-ad
newssbna-ad
ওয়েব সাইটে প্রকাশিত কোন প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও মতামত এর জন্য সম্পাদক কোন ভাবে দায়ী নন