শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন

অভিভাবক শূন্য চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি


।।মুহাম্মদ মহরম হোসাইন।।

বিএনএ,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সাবেক এমপি, মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম ও চট্টগ্রাম নগর সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের পর এবার চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে গ্রেফতারের পর অনেকটা অভিভাবক ও নেতৃত্ব শূন্যতায় পড়েছে চট্টগ্রাম নগর বিএনপি। গত (৭ নভেম্বর) বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার আদালত এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম সর্বশেষ মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে গ্রেফতার করে। এর আগে গত (২২ অক্টোবর) সোমবার নগরীর জিইসি মোড় এলাকা থেকে নগর বিএনপির সাধারণ আবুল হাশেম বক্কর ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি)।

দলের সভাপতি  ও সাধারণ সম্পাদকএই শীর্ষ দুইটি পদের নেতৃবৃন্দ গ্রেফতার হওয়ার ফলে যারাই ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা তারাই গ্রেফতার এড়াতে অনেকটা অঘোষিত আত্মগোপনে রয়েছেন।নগর বিএনপির নির্বাহী কমিটির অন্যন্যা নেতারাও চলে গেছেন ডার্ক সাইটে। বন্ধ রয়েছে নেতৃবৃন্দের মোবাইল ফোনও। তবে কিছু কিছু নেতৃবৃন্দের মোবাইল বন্ধ থাকলেও তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও হোয়াটস অ্যাপসর মাধ্যেমে সক্রিয় রয়েছেন। কেন্দ্র ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে নগর বিএনপির ব্যানারে পিছনের সারির নেতৃবৃন্দকে এখন নেতৃত্ব দিতে দেখা যাচ্ছে।অবশ্য নেতারা তা স্বীকার করেন না।

এছাড়া বিএনপির নেতৃবৃন্দের মত গ্রেফতার অাতঙ্কে আত্নগোপনে রয়েছে দলটির অঙ্গ সংগঠন যুবদল, সেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। মাঠে ময়দানের কর্মসূচিতে নেই অঙ্গ সংগঠনটির কোন নেতা।

এদিকে গত ৭ নভেম্বর বুধবার সকালে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যেগে ষোল শহরস্থ বিপ্লব উদ্যানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও সমাবেশে দেখা যায়নি নগর বিএনপির কোন শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে। সমাবেশে যাদের দেখা যায় তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রিয় কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন,নগর বিএনপির উপদেষ্টা ও পেশাজীবি নেতা সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, বিএনপির উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ঝন্টু বড়ুয়া, নগর মহিলা দলের সভাপতি কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি, নগর বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইদ্রিস আলী, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ শাকির রশিদ, নগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, শ্রমিক দল নেতা শ ম জামাল, নগর বিএনপির সদস্য ইউসুফ সিকদার প্রমুখ।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী এই ব্যাপারে টেলিফোনে নিউজ বিএনএ ডটকমকে জানান, ‘আমরা অভিভাবক শূন্য নয়। আমাদের নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে আমাদের অভিবাবক শূণ্য করা হচ্ছে। যাতে আমরা রাজপথে দাঁড়াতে না পারি। আমাদের সকল নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করা হচ্ছে। আমাদের লাটিপেটা করা হচ্ছে। একের পর এক মামলা দেয়া হচ্ছে। একেক থানায় ১০/১৫টা পর্যন্ত মামলা হয়েছে। কোনো ধরনের ঘটনা না ঘটলেও গায়েবিভাবে মামলা রুজু করা হচ্ছে। এভাবে কি দেশ চলে। নেতৃবৃন্দ জেলে পুরে বিএনপিকে পঙ্গু করার চেষ্টা করছে এই সরকার। তারপরও আমরা জেল জুলুম নির্যাতন সহ্য করেও বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন, নাগরিকের ভোট, মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করছি। আমাদের এই সংগ্রাম শেষ নিশ্বাস পযর্ন্ত চলবে’।

 

বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা যায়, ডা. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে অন্তত ৫০টির বেশি মামলা রয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চট্টগ্রামে সমাবেশের পর বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ১০টি ‘গায়েবি মামলা’ দায়ের করেছে। প্রত্যেক মামলায় ডা. শাহাদাত হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।

সম্পাদনায়: এসজিএন


newssbna-ad
newssbna-ad
ওয়েব সাইটে প্রকাশিত কোন প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও মতামত এর জন্য সম্পাদক কোন ভাবে দায়ী নন