বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম-৯ : যোগ্য পিতার উত্তরসূরী নওফেল


।।মুহাম্মদ মহরম হোসাইন।।

বিএনএ,চট্টগ্রাম, ১৬ নভেম্বর : চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, যার স্বপ্ন ছিল চট্টগ্রামের উন্নয়ন। যিনি রাজপথে লড়ছেন সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমিক, মজুর ও সর্বোপরি সাধারণ মানুষের জন্য।

যার কন্ঠছিল শোষিত ও নির্যাতিত মানুষের। যিনি গর্জে উঠতেন চট্টলা বিরোধী স্বার্থবাজদের বিরুদ্ধে। তাইতো তিনি চট্টলবীর। আজ তিনি নেই। তার পুত্র এখন তার স্থলে।

যিনি সবর্দা জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে একজন রাজপথের কর্মী হিসেবে চষে বেড়াচ্ছেন জেলার পর জেলা। সেখানে তিনি পিতার মত নিজ কর্মের গুণে হয়েছেন সফল। নজড় কেড়েছেন স্বয়ং দলীয় কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য নেতাদের।

হ্যাঁ বলছিলাম আমাদের চট্টগ্রামের সন্তান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কথা।

যিনি ইতোমধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া-চকবাজার) আসন থেকে আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়ে শহর জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।

নওফেলের পিতা প্রয়াত চট্টলবীর আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী রাজনৈতিক জীবনে আ’লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম-৯ আসনটিতে প্রথম নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।

এবার সেই পিতার আসনটিতে তিনিও প্রথম আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। যদিও আ’লীগ থেকে এই আসনে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। তবে দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে ক্লিন ইমেজের ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নাম।

চট্টগ্রাম-৯ আসনটিকে ঘিরে এখন স্থানিয় নগরবাসির মধ্যে চলছে আলোচনা-পর্যালোচনা। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

পুরো শহর জুড়ে সবার মুখে মুখে একটায় কথা ঘুরপাক খাচ্ছে, এই আসন থেকে কাকে মনোনয় দেয়া হবে? কে পাবে মনোনয়ন? জাতীয় পাটির প্রার্থী, নাকি আ’লীগের দলীয় প্রার্থী? এই নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আ’লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দৃষ্টি এখন এই আসনের প্রার্থীদের দিকে।

শেষ পযর্ন্ত ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রার্থী নাকি জোটের স্বার্থে জাপাকে ছেড়ে দিবে আসনটি।

এই আসনে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ’লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে মনোনয়ন পান জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। তখন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে নেত্রী জাতীয় পার্টিকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটি ছেড়ে দিয়েছিলেন।

তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দায়িত্বে থাকা একাধিক নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামীলীগ এবার নগরির এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটি জাতীয় পার্টিকে নাও দিতে পারে। এই আসনে এবার আওয়ামী লীগের নিজস্ব প্রার্থী দেয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এদিকে এই আসনের প্রার্থীর ব্যাপারে আ’লীগের অনেক স্থানিয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই আসনে বহিরাগত কোন প্রার্থী তারা চাননা। তাদের সাফ কথা স্থানীয় কাউকে এখানে মনোনয়ন দিতে হবে।

এই আসনটি চট্টগ্রামের নাভি। এখানে দল যদি গত বারের মত বাইরের কাউকে মনোনয়ন দেন তা হবে বিরাট ভুল। এলাকায় আ’লীগের দলীয় কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটবে।

দেশ ব্যাপী আ’লীগ সরকারের এত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে স্থানিয় নেতারা জানান,  বাবুল সাহেব (অথাৎ এমপি) আ’লীগ নেতাদের প্রচেষ্টায় এমপি হন।

তিনি এমপি হওয়ার পর কোনদিন নিজ এলাকায় এসে আ’লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মিলিত হননি।

উন্নয়ন মূলক কোন বরাদ্দ কাজে আ’লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করেননি। কারণ তিনি আ’লীগের এমপি না, তিনি জাতীয় পার্টির।

তাই আ’লীগের নেতাকর্মীর প্রতি তার দরদ ও মমতা নেই। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তার ওপর অসন্তুষ্ট। তাকে মনোনয়ন দিলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এই ব্যাপারে নিউজ বিএনএ ডটকমকে বলেন, কোন আসনে কে নির্বাচন করবে তা কারো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে হয় না। এটা দলীয় সিদ্ধান্ত।

জাতীয় পার্টি যেহেতু আওয়ামী লীগের সাথে জোটে আছে সেটা জোট সিদ্ধান্ত দিবে কে কোথায় নির্বাচন করবেন। তবে জাতীয় পার্টি আশা করে আওয়ামী লীগ গত বারের মত এবারও আসনটি ছেড়ে দিবেন। আর আওয়ামী লীগ যদি আসনটি জাতীয় পার্টিকে দেয় তাহলে এখানে আমি প্রার্থী হবো। এটা এক প্রকার নিশ্চিত।

নওফেলের মনোনয়ন প্রত্যাশার ব্যাপারে নগর আওয়ামীলীগের একাধিক সিনিয়র নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, মহিউদ্দিন চৌধুরী মৃত্যুর আগে তারপুত্র ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে বঙ্গবন্ধুর তনয়া শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিয়ে যান।

নেত্রীও মহিউদ্দিন চৌধুরী জীবিত থাকা অবস্থায় নওফেলকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর মুত্যুর পর নেত্রী চট্টগ্রামে এসে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় গিয়ে নিজে নওফেল ও তার ভাই বোরহান সালেহীনের দায়িত্ব নেন।

সেই হিসেবে প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে নেত্রী হয়তো এই আসনে নওফেলকে মনোনয়ন দিতে পারেন এমনটাই তারা আশা করছেন। কারণ নেত্রী প্রয়াত নেতৃবৃন্দের সন্তানদের ইতোমধ্যে মন্ত্রী এমপি করে মূল্যায়ন করেছেন।

দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল নিউজ বিএনএ ডটকমকে বলেন, আমি চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া-চকবাজার) আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি।

আমার পিতা ছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন রাজপথের কর্মী। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বুকে নিয়ে চট্টগ্রামের জনগনের জন্য কাজ করেছেন।

কখনো দলের নীতি, আদর্শ ও লক্ষ্য থেকে লাইন চ্যুত হননি। আমি সেই বাবার সন্তান। সবর্দা দলের আর্দশ ও নির্দেশ আমার কাছে বড়। দলের আদেশ মানতে গিয়ে কি পেলাম আর না পেলাম সেটা বড় কথা নয়।

তিনি আরো বলেন, আমার আস্থার প্রতিক ও দলীয় সভানেত্রী নিজেই চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব হাতে নিয়েছেন। তাই তিনিই ভাল জানেন, কাকে দয়িত্ব দিলে সেই উন্নয়ন কাজ আরো তরান্বিত করতে পারবে। নেত্রীর সিদ্ধান্তই আমার কাছে বড়।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম শহরের মধ্যে- ৯ আসনটি অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই নগরির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এবার এই আসনে নৌকার প্রার্থী চায়। তবে দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় আমি নির্বাচন করব। আর যদি অন্য কাউকে দেয় তাহলে সে করবে। একটাই কথা তা হল সভানেত্রী দলীয় কিংবা জোটের শরীক যাকেই মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে কাজ করতে হবে দলীয় নেতাকর্মীদের।

চট্টগ্রাম-৯ এই সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় আছেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেসার্স ইলিয়াছ ব্রাদার্সের (দাদা গ্রুপ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিল্পপতি শামসুল আলম,চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

তবে শেষমেষ নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বিএনপি মনোনয়ন পেতে পারেন বলে বিএনপির কর্মীরা আশা করছেন।

প্রসঙ্গত:  ১৯৯১ সালে এই আসনে নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী নৌকা প্রর্তীকে নির্বাচন করেন। সেইবার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান বিজয়ী হয়েছিলেন।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রয়াত এম এ মান্নান বিএনপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান হারিয়ে জয়লাভ করেন।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম এ মান্নানকে হারিয়ে জয়লাভ করেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুল ইসলাম বিএসসি বিএনপির প্রার্থী শামসুল আলমকে হারিয়ে বিজয়ী হন।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু জয়ী হন।

সম্পাদনায়: সৈয়দ গোলাম নবী


newssbna-ad
newssbna-ad
ওয়েব সাইটে প্রকাশিত কোন প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও মতামত এর জন্য সম্পাদক কোন ভাবে দায়ী নন