বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম-১৫ আসনে স্বতন্ত্রের মোড়কে জোটের প্রার্থী জামায়াত

জামায়াতের একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের প্রস্তুতি

।।মুহাম্মদ মহরম হোসাইন।।

বিএনএ,চট্টগ্রাম: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে নিজেদের ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত আসনগুলোতে নির্বাচন করার স্বপ্ন দেখলেও অবশেষে শুধু চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী দিয়েছে। তবে সেখানে প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। এই সংসদীয় আসনটি জামাত অধ্যুষিত হলেও একাধিক প্রার্থীদের কারণে এখন জামায়াত নেতারা তিন শিবিরে বিভক্ত। এলাকায় জামায়াত রাজনীতি এখন গৃহদাহে জর্জরিত।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর তিন হেভিওয়েট নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সাংসদ আ ন ম শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম নগরের সাবেক নায়েবে আমির ও সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে আমির জাফর সাদেক।

যদিও ২০ দলীয়জোট কেন্দ্র থেকে এই আসনে শামসুল ইসলামকে মনোনয়নের জন্য চূড়ান্ত করেছে।

জামায়াতের স্থানীয় রাজনীতি সূত্রে জানা যায়, শামসুল ইসলামের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন শাহজাহান চৌধুরী। দুজনে একই আসনে প্রার্থী হওয়ার কারণে জাফর সাদেকও প্রার্থী হন। তবে শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান চৌধুরী দু’জনই বর্তমানে চট্টগ্রাম কারাগারে।

এ আসনে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হন শাহজাহান চৌধুরী। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন পাননি। তার পরিবর্তে এ আসনটিতে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন শামসুল ইসলাম।

স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  জামায়াতের প্রার্থীদের নিজেদের অন্তকোন্দলের কারণে ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বদানকারী স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীরা তাদের উপর বেজায় ক্ষ্যাপা। এবার বেশ বাধার মুখে পড়েছেন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী শামসুল ইসলাম।

জোটের স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শামসুল ইসলাম সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতেন এবং নিজের আত্মীয়-স্বজনকে দিয়ে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন, এ অভিযোগে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলেই সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় জামায়াত-বিএনপি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে।

শাহজাহান চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক নিউজ বিএনএ ডটকমকে জানান, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া শাহজাহান চৌধুরীর ঘাঁটি। এই আসনে তাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি। তাই এই আসনে শাহজাহান চৌধুরীকে দলের মনোনয়ন দেয়া দরকার ছিল। দল শামসুল ইসলামকে প্রার্থী ঘোষণা করায় স্বতন্ত্র হিসেবে তিনি নির্বাচন করবেন।

সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল ফয়েজ নিউজ বিএনএ ডটকমকে বলেন, ‘শামসুল ইসলাম দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থী হয়েছেন। শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রাম-১০ আসনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম-১৫ আসনে কেন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন বুঝতে পারছি না।’

তবে জামায়াতের নেতারা দ্বন্দ্বের বিষয়টি অস্বীকার করলেও শাহজাহান চৌধুরী সাতকানিয়া আসনে কেন মনোনয়ন ফরম নিলেন বিষয়টি নিয়ে তাঁরা চিন্তিত। জামায়াত নেতারা বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শামসুল ইসলামকে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আর শাহজাহান চৌধুরী নির্বাচন করবেন চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) আসনে।

কোনো কারণে শামসুল ইসলাম চট্টগ্রাম-১৫ আসনে নির্বাচন করতে না পারলে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে থাকবে জাফর সাদেক।

এদিকে স্থানীয় বিএনপির নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জামায়াতের শামসুল ইসলামকে এই আসনটিতে মনোনয়ন দেয়া মানে নৌকা প্রার্থীর সুনিশ্চত বিজয়। অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এই মনোনয়নে হতাশ।

প্রসঙ্গত: ২০০৮ সালের নির্বাচনে বৃহত্তর চট্টগ্রামে দুটি আসনে জয়লাভ করেছিলেন জামায়াত প্রার্থীরা। এর মধ্যে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে জয়লাভ করেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির শামসুল ইসলাম ও কক্সবাজারের মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে ঢাকা মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির হামিদুর রহমান আজাদ।

২০১৩ সালে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে  হাইকোর্ট। যার কারণে দলীয় নয় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ২০ দলীয় জোটের সাথে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। জোটের প্রার্থী হলে তারা ধানের শীর্ষ প্রতীক ব্যবহার করবেন।

 

সম্পাদনায় : আবির হাসান


newssbna-ad
newssbna-ad
ওয়েব সাইটে প্রকাশিত কোন প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও মতামত এর জন্য সম্পাদক কোন ভাবে দায়ী নন