সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ০২:১৫ অপরাহ্ন

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক


নিউজ বিএনএ ডটকম, বিশ্ব ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তার পরিচয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, ক্রাইস্টচার্চে একজন উগ্র মনোভাবের অধিকারী ডানপন্থী উন্মত্ত জঙ্গি হামলা চালিয়েছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেয়া নাগরিক। তবে  বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান স্কট মরিসন। তার নামও প্রকাশ করেন নি তিনি।  অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, টুইটারে তার নাম ব্রেনটন ট্যারেন্ট। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটন থেকে গেছেন।হামলার আগে একটি মেনিফেস্টো সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে ট্যারান্ট। তাতে নিজেকে অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।অভিবাসীবিদ্বেষী এই হামলাকারী তার মেনিফেস্টোতে বলেছে, এ হামলা করে ‌‌অনুপ্রবেশকারীদের (অভিবাসী) সে দেখাতে চায় যে, ‘আমাদের ভূমি কখনো তাদের ভূমি হবে না যতক্ষণ শেতাঙ্গরা জীবিত থাকবে।’সে আরও লিখেছে, ‌আমাদেরকে আমাদের এবং নিজেদের শিশুদের ভবিষ্যতকে নিশ্চিত রাখতে হবে।

নিজেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন সমর্থক হিসেবে তুলে ধরে হামলাকারী তার মেনিফেস্টোতে লিখেছে,‘পূনরুজ্জীবিত শ্বেতাঙ্গ পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে’ বললে আমি অবশ্যই ট্রাম্পের একজন সমর্থক।

শুক্রবার(১৫ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসলিমদের ওপর হামলা চালান ওই বন্দুকধারী। পরে কাছাকাছি শহরতলি লিনউডের মসজিদে হামলা চালানো হয়। তবে দ্বিতীয় মসজিদে হামলাকারী একই ব্যক্তি কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী কারও কারও মতে, হামলাকারী একাধিক ছিলেন। হামলায় জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ চারজনকে পুলিশ আটক করেছে। একটি গাড়িতে স্থাপন করা বিস্ফোরক উদ্ধার করে তা নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ।

এদিকে ,ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর পর একটি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। এতে দেখা গেছে, ভিডিও গেমের মতো একজন বন্দুকধারী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি করছে। হামলার ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বন্দুকধারী হামলার আগে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। হয়তো তাঁর মাথায় ভিডিও ক্যামেরা বসানো ছিল। একটি ওয়েবসাইট জানায়, হামলাকারী হামলাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেছেন।

ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাকারী স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে মসজিদের দিকে যাচ্ছেন। মসজিদের প্রবেশ কক্ষ থেকেই মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে শুরু করেন। মসজিদের ভেতর ছোটাছুটিরত মুসল্লিদের প্রতি টানা গুলি করতে থাকেন। এরপর মসজিদের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে ঘুরে ঘুরে গুলি করতে থাকেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে যাঁরা মসজিদের মেঝেতে পড়েছিলেন, তাঁদের দিকে ফিরে ফিরে গুলি করছিলেন তিনি।

এক্সপ্রেস নামের একটি স্থানীয় গণমাধ্যমের অনলাইনে বলা হয়েছে, হামলাকারীকে শনাক্ত করা গেছে। ২৮ বছর বয়সী একজন শ্বেতাঙ্গ। তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছেন। দুই বছর ধরে তিনি এ হামলার পরিকল্পনা করছেন। হামলাকারী জানিয়েছেন, ইউরোপের দেশগুলোতে বিদেশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে  এ হামলার পরিকল্পনা করেন তিনি।

অন্যদিকে, ভিডিওটি ভয়াবহ উল্লেখ করে তা অনলাইনে না ছড়াতে লোকজনকে নির্দেশ দিয়েছে নিউজিল্যান্ড পুলিশ।২৮ বছর বয়সী ওই হামলাকারীর নাম ব্রেটন টারান্ট। অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেয়া ওই ব্যক্তি এই নামেই নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট খুলেন বলে জানায় স্থানীয় পুলিশ। তবে পুলিশের ধারণা, এটি তার আসল নাম নয়। তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওই ব্যক্তি কী কারণে এ হামলা চালিয়েছিলেন তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাতে পারেননি নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ।

তিনি বলেন, এই বন্দুক হামলার পর ক্রিস্টচার্চ মসজিদে একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে পুলিশ। তবে এখনও ঝুঁকি কাটেনি।

আর করিম চৌধুরী

 

 

 


ট্যাগ:

newssbna-ad
newssbna-ad
ওয়েব সাইটে প্রকাশিত কোন প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও মতামত এর জন্য সম্পাদক কোন ভাবে দায়ী নন