বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

খুনি ব্রেন্টন একজন শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি


বিএনএ, বিশ্ব ডেস্ক ।। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে  তিন মিনিটে ৪৯ জন  নিরীহ সাধারণ মানুষের হত্যাকাণ্ডের খলনায়ক অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ব্রেনটন হেরিসন ট্যারেন্টের নাম মুহূর্তে ছড়িয়ে গেছে সারা বিশ্বে। ফেসবুক লাইভে থেকে ব্রেনটন সিটি সেন্টারে অবস্থিত নূর মসজিদ ও  লিনউডে অবস্থিত মসজিদে হামলা চালায়।

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে ব্রেনটনের  পরিবার। এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর তারাও জেনে গেছে। ভীষণ মর্মাহত পরিবারটি। অস্ট্রেলিয়া পুলিশ পরিবারের সদস্যদের ডেকেছে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে। তাদের সহযোগিতা চেয়েছে  পুলিশ প্রশাসন।নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ কমিশনার মাইক ফুলার বলেন, গত চার বছরে খুনি ব্রেন্টন অস্ট্রেলিয়া আসেনি। যেখানে সে থাকে, তাকে পুলিশও চিনে না। তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অনলাইনে দেওয়া ৭৩ পৃষ্ঠার মেনিফেস্টোতে সে নিজেকে একজন খাঁটি শ্বেতাঙ্গ বলে দাবি করেছে।২৮ বছর বয়সী ব্রেনটন বলেন, দরিদ্র ঘরের সন্তান আমি।আমি চাই শ্বেতাঙ্গদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যত গড়ে তুলতে।বেন্টন চান ইউরোপে অভিবাসীদের সংখ্যা কমিয়ে ফেলতে। ব্রেন্টন (২৮) স্থানীয় হাইস্কুলের একজন ছাত্র, একটি জিমে কাজ করতেন। সেখানে তিনি নিয়মিত শিশুদের ফ্রি শরীরচর্চা শিক্ষা দিতেন।

২০১‌০ সালের এপ্রিলে ক্যান্সারে বাবার মৃত্যুর পর সাবেক বন্ধুদের সাথে সাত বছর তিনি বিশ্ব ভ্রমণে বের হন। এ সময়টুকুর মধ্যে খুব সম্ভবত ব্রেন্টন মৌলবাদি ধ্যান ধারনার সংস্পর্শে আসেন।স্কাই নিউজ জানায়,ব্রেন্টনের পরিবারের এ ঘটনায় অত্যন্ত ব্যথিত।তারা পুলিশকে তদন্তে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করছেন।ব্র্রেন্টনের টুইটারে দেখা গেছে ২০১৬ সালে নিচ এ  বাস্তিল দিবসে যে হামলা হয়েছিল তাতে আহত একজনের ছবি।

হামলার কারণ হিসেবে ব্রেন্টন জানিয়েছে, আমাদের এ ভূমি তাদের হাতে যেতে পারে না।এখানে শুধু শ্বেতাঙ্গরাই থাকবে। এ ভূমি অন্য কেউ জয় করতে পারবে না। তারা কখনোই আমাদের স্থানচ্যুত করতে পারবে না।

এটি ছিল দুই বছর আগের পরিকল্পিত এক হত্যাকাণ্ড। তিম মাস আগেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন ক্রাইস্টচার্চের মসজিদকেই তার শিকারে পরিণত করবেন।  ভাল একটি অনুকূল পরিবেশই তিনি খুঁজছিলেন।সেটি নিউজিল্যান্ড হবে এমন কোন লক্ষ্য ছিল না। পশ্চিমা বিশ্বের যে কোন দেশই ছিল তার টার্গেট। ব্রেন্টন বলেন, বিশ্বের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চল রয়েছে যেখানে কেউ যেতে পারে না। সেখানেই অভিবাসীদের পাঠিয়ে দিলেই হয়।

 

সম্পাদনায় : আবির হাসান।

 

 


ট্যাগ:

newssbna-ad
newssbna-ad
ওয়েব সাইটে প্রকাশিত কোন প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও মতামত এর জন্য সম্পাদক কোন ভাবে দায়ী নন