শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামের সর্ব বৃহৎ রেষ্টুরেন্ট আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায়:01716430580

নুসরাত হত্যা: সেই মনি আটক

নুসরাত জাহান রাফি

মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কামরুন নাহার মনি নামে আরেকজনকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সোমবার(১৫এপ্রিল) রাতে ফেনী থেকে তাকে আটক করা হয়। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেনী জেলা পিবিআিইয়ের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান।

পিবিআই জানিয়েছে, সন্দেহভাজন মনি নুসরাত হত্যার অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমের সম্পর্কে ভাগ্নি। হত্যার দিন এক লিটার কেরোসিন বহন করে মাদ্রাসায় নিয়ে যায় কামরুন্নাহার মনি। তদন্ত সাপেক্ষে মনিকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

এর আগে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শাহাদাত হোসেন শামীমকে গ্রেফতার করে পিবিআই।আলোচিত এ মামলা এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। তারা হলেন, অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা,  পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকছুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, যোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন ও মোহাম্মদ শামীম।এদের মধ্যে মামলার এজহারভুক্ত আটজনের মধ্যে ৭ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। হাফেজ আবদুল কাদের নামে এজহারভুক্ত আরও এক আসামি পলাতক রয়েছেন। তাকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

গত রবিবার (১৪ এপ্রিল) দীর্ঘ নয় ঘণ্টা ধরে ফেনীর সিনিয়র জুডিমিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্দ জাকির হোসেনের আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে পুরো ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন শামীম ও নুর উদ্দিন।

এ ব্যপাারে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তাহের সোহান বলেন, নুসরাত হত্যায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন শামীম ও নুর উদ্দিন।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে তারা বলেন, ৪ এপ্রিল রাতে মাদ্রাসার হোস্টেলের পশ্চিমপাশে নুসরাতকে হত্যা করতে রীতিমতে বৈঠক বসে। রাত সাড়ে নয়টা থেকে শুরু হওয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, হিসাব বিভাগের হাফেজ আবদুল কাদের, জোবায়ের, জাবেদ, মহিউদ্দিন শাকিল ওরফে শাকিল, শামীম (২), ইমরান, ইফতেখার হোসেন ওরফে রানা, শরীফ হোসেন ওরফে শরীফ। তারা রাত ১২টা পর্যন্ত বৈঠক করে।

পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ৬ এপ্রিল ঘটনার দিন সকাল সাতটা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে সবাই হাজির হয়। নুরউদ্দিন, হাফেজ আবদুল কাদের, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা, শরীফ হোসেন ও মাদ্রাসার শিক্ষক আফসার গেটে পাহারায় ছিলো। মহিউদ্দিন শাকিল ও শামীম(২) সাইক্লোন সেন্টার ভবনের নীচে পাহারা দেয়। কাউন্সিলর মাকসুদ তাদেরকে ১০ হাজার টাকা ও মাদ্রাসার ইংরেজীর শিক্ষক সেলিম ৫ হাজার টাকা দেয় খরচ করার জন্য। কোন অভিভাবককে সেদিন মাদ্রাসার ভিতরে ঢুকতে দেয়নি তারা। ভাইকে সাথে নিয়ে নুসরতা মাদ্রাসায় এসেছিলো সেদিন। তবে তার ভাইকে মাদ্রাসা ভেতরে ঢুকতে দেয়নি।

জবানবন্দিতে নুরউদ্দিন বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী সকাল সাড়ে নয়টা থেকে পৌনে দশটার মধ্যে বান্ধবী নিশাতকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে মারধর করছে জানিয়ে নুসরাত ছাদে নিয়ে যায় শম্পা। সেখানে আগে থেকেই শাহাদাত হোসেন শামীম, জোবায়ের, জাবেদ ও কামরুন্নাহার মনি বোরকা পরে অবস্থান করছিলো। ছাদে উঠার সাথে সাথে নুসরতাকে শম্পা ও মনি ধরে ফেলে। শামীম তার মুখ চেপে ধরে। পরনের ওড়না ছিঁড়ে নুসরাতের হাত ও পা বেধে ফেলে জোবায়ের। তাকে মাটিতে শুয়ে মুখ চেপে ধরে শামীম।মনি বুকের উপর চাপ দিয়ে ধরে রাখে। পা ছেপে ধরে শম্পা। (শম্পার আসল নাম উম্মে সুলতানা পপি। পরিকল্পনা অনুযায়ী শম্পাকে পপি নামে ডাকা হয়েছিলো)।

পলিথিনের ব্যাগে থাকা কেরোসিন বের করে নুসরাতের পা থেকে বুক পর্যন্ত ঢেলে দিয়ে ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় জাবেদ । হাত পা বাধা থেকে আগুন দেয়া পর্যন্ত পাঁচমিনিটের মতো সময় লেগেছে।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে শাহাদাত হোসেন শামীম বলেন, নুসরাতের সারা গায়ে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বোরকা খুলে শামীম, জুবায়ের ও জাবেদ মাদ্রাসার প্রস্রাবখানার পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়।শম্পা ওরফে পপি মাদ্রাসার হোস্টেলে ঢুকে যায়। বের হয়েই রাফির গায়ে আগুন দেয়ার বিষয়টি ফোন করে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহ সভাপতি রুহুল আমিনকে জানায় শামীম।

অধ্যক্ষ সিরাজের পক্ষে জামায়াত ও আওয়ামী লীগ নেতারা প্রথমদিকে সমর্থন যোগালেও বর্তমানে সকলে আপন প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত। এ সব ব্যাপারে মিডিয়া ও গোয়েন্দা সংস্থার অনুষন্ধানে বেরিয়ে এসেছে নানা তথ্য।

 

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও জামায়াত নেতা সিরাজ-উদ-দৌলা ৮০’র দশকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির মাধ্যমে জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। পরে জামায়াতের রোকন হন। ২০১৬ সালের দিকেও তাকে জামায়াতের মিছিল-সমাবেশে দেখা যেত।অবশ্য সোনাগাজী উপজেলা জামায়াতের আমির কলিম উল্যাহ বলেন, সিরাজকে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৬ সালে জামায়াত থেকে বহিস্কার করা হয়।

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ যখন জেলে, তখন তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ধর্নাদেন। টাকা পয়সার বিনিময়ে স্বামীকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য উঠে পড়ে লাগেন।মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে জব্দ করার জন্য বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ রাখেন।কিন্ত ঘটনা বেগতিক হয়ে উঠলে তিনি সন্তানদের নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান। সোনাগাজীর ৮নং আমিরাবাদ ইউনিয়নের চরকৃষ্ণজয় গ্রামে অধ্যক্ষ সিরাজের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার ঘরে তালা। বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অধ্যক্ষের স্ত্রী ও ছেলেরা এখন কোথায় আছেন, তা জানেন না সিরাজের বড় ভাইয়ের স্ত্রী হাছিনা আক্তার।

আর করিম চৌধুরী/এসজিএন


ট্যাগ:

newssbna-ad

The Village Restaurant And Party Centre Finlay house ,Ground floor (oposite CGO building 11) Agrabad C/A Or Call 0176588888

ওয়েব সাইটে প্রকাশিত কোন প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও মতামত এর জন্য সম্পাদক কোন ভাবে দায়ী নন