বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন

সদ্য সংবাদ:

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে


।।মিজানুর রহমান মজুমদার ।।

বিএনএ, চট্টগ্রাম ।। অনিরাপদ খাদ্যের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও ক্যাব চট্টগ্রাম জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। এজন্য আগামি ১ মার্চ থেকে নগরীর সর্বত্র হোটেল রেস্তোরা, খাদ্য উৎপাদানকারী প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সিটিকর্পোরেশন এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ক্যাবসহ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এখন বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বর্তমানে দেশে উৎপাদিত বা প্রক্রিয়াকৃত বেশীরভাগ খাদ্যদ্রব্যই অতি মাত্রায় ভেজালযুক্ত এবং অস্বাস্থ্যকর। প্রান্তীক  পর্যায়ে খাদ্য উৎপাদনে সঠিক জ্ঞানের অভাবে আবার কখনো কখনো অসাধুতা এবং বাজারজাতকরণ ও বিপণনে দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাবে খাদ্যের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে।

সাধারণ জনগনের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত এখনও সম্ভব হয়নি। সেকারণে  সরকারও অনিরাপদ খাদ্যের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তাই এখন প্রয়োজন যারা খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ ও অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করার জন্য ব্যাপক জনমত তৈরি করা।

রাস্তার পাশে ছাতার মতো গড়ে ওঠা বিভিন্ন খাবারের দোকানে এমনকি নামিদামী ফাস্টফুড রেস্তোরাঁগুলোতে খাদ্য ভেজালকরনের এই চর্চা দিন দিন বেড়েই চলছে। একদিকে খাদ্যে বিভিন্ন ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান (ফরমালিন, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইউরিয়া, পলি অ্যালকালাইন গাইকল) এবং বিষাক্ত কৃত্রিম রং (ইথিফেন বা রাইপেন) মেশানো হচ্ছে, অন্যদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা অবস্থায় বিক্রি করা হচ্ছে এই সব খাবার।

যা বিষক্রিয়া, ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, চর্মের সংক্রমণ, শ্বাস-প্রশ্বাস ও পরিপাকতন্ত্রের সমস্যাসহ জীবনঘাতী রোগ মেনিনজাইটিস, সেপ্টেসেমিয়া এবং হেপাটাইটিসসহ দীর্ঘস্থায়ী এবং অ-দীর্ঘস্থায়ী রোগ সৃষ্টি করে জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। আবার কীটনাশক (যেমন— ডিডিটি, পিসিবি তৈল), রাসায়নিক সারের মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ আর শিল্পকারখানা থেকে নির্গত হওয়া বিষাক্ত বর্জ্য মাটি ও পানির মাধ্যমে শস্য, ফল ও সবজিতে প্রবেশ করছে, যা খাদ্যের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে মানবদেহে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত  খবরে দেখা যায়, পোলট্রিফিড কারখানাগুলোয় ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য দিয়ে মুরগি ও মাছের খাবার তৈরি হচ্ছে। এসব খাবারে রয়েছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ক্রোমিয়াম, যা মুরগির মাংস, ডিম এবং মাছের মাধ্যমে মানুষের দেহে ঢুকে পড়ছে। এগুলো মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ফিড ব্যবহার করে উৎপাদিত মুরগি, ডিম এবং মাছ খেয়ে মানুষের লিভার ও কিডনির মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তাছাড়া ক্যান্সার সৃষ্টি করার মতো উপাদান রয়েছে এতে।

তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে প্রয়োজন সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গির। ১) নিয়মিত বিভিন্ন কাচা বাজার মাছের আড়ত এবং হোটেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। ২) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে অধিকতর জনবলের মাধ্যমে আরো শক্তিশালী সংস্থায় পরিণত করে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ৩) খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় দিবসে দেশব্যাপী বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নেয়া। ৪) নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ মেনে চলতে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করতে হবে।

সুস্থ সবল জাতি চাই, পুষ্টিসম্মত নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নাই” শীর্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর আলোকপাত করে বক্তারা বলেন, খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। খাদ্যের অভাবে মানুষ এক সময় না খেয়ে মরতো, এখন মানুষ আর না খেয়ে মরছে না, মানুষ মরছে অনিরাপদ, ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন ও বিপণনকৃত খাদ্য খেয়ে। বৈজ্ঞানিকদের মতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে কৃষকের মাঠ থেকে গৃহিনীর খাবার টেবিলে খাদ্য পরিবেশন পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্যের যাবতীয় বিধিবিধানগুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা না হলে নিরাপদ খাবার নিশ্চিত হবে না।

 

 

 

 


নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

newssbna-ad

The Village Restaurant And Party Centre Finlay house ,Ground floor (oposite CGO building 11) Agrabad C/A Or Call 0176588888

ওয়েব সাইটে প্রকাশিত কোন প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও মতামত এর জন্য সম্পাদক কোন ভাবে দায়ী নন