রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ০৪:১৭ অপরাহ্ন

সদ্য সংবাদ:

আর যেন ২৯ এপ্রিলের ক্ষতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে

১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরি ঘূর্ণিঝড় ও

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ঠ নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’-তে পরিণত হওয়ায় আশঙ্কা জাগছে উপকূলবাসীর মনে। সে আশঙ্কা আরও প্রকট করেছে ২৯ এপ্রিল। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ প্রবল শক্তিশালী রূপ নিচ্ছে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির বর্তমান গতিপথ অনুযায়ী বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা কম। সোমবারও বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত বহাল রয়েছে।

১৯৯১ সালের এই দিনে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে সরকারি হিসেবে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ নিহত এবং ১ কোটি মানুষ তাদের সর্বস্ব হারিয়েছিল। সেদিনের ভয়াল এই ঘটনা এখনও দুঃস্বপ্নের মতো তাড়িয়ে বেড়ায় উপকূলবাসীকে।দুঃসহ সে স্মৃতি আজও কাঁদায় স্বজনহারা মানুষগুলোকে।

২৯ এপ্রিলের সেই ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতি বয়ে উপকূলীয় মানুষের কাছে দিনটি ফিরে আসে বার বার। দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি শোকাবহ দিন।

ওই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছিল ফসলের ক্ষেত, লাখ-লাখ গবাদি পশু। সবমিলিয়ে ক্ষতির পরিমান ছিল দেড় বিলিয়ন ডলার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় ভোলা, হাতিয়া, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, আনোয়ারা, বাঁশখালী, কক্সবাজারের চকরিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায়। এই ঘূর্ণিঝড়ের ২৮ বছর পরও সেসব উপকূলীয় এলাকা এখনো অরক্ষিত বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। কোথাও বেড়ি বাধ আছে-কোথাও নেই।কোথাও আবার নাম সর্বস্ব।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বর্তমানে ২৬শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে।চট্টগ্রামের পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ৮০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ হচ্ছে। পতেঙ্গা থেকে সীতাকুণ্ডের সলিমপুর পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার সাগর উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ২২ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ হয়েছে। বাঁশবাড়িয়া এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে। বাঁশখালীতে ৩৩ কিলোমিটার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ চলমান।

আনোয়ারায় চার কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকায় দুই কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ রয়েছে। বর্তমানে ৩১২ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে। সন্দ্বীপে ৫৮ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে ১৯৬ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে। এই প্রকল্পে ৯ দশমিক ৭ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে। মিরসরাইয়ে উপকূল এলাকায় ১৭শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে সব প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

সেদিন রাত ১০টার পর ১০ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতায় সাগরের পানি মুহূর্তেই ধেয়ে আসে লোকালয়। জলোচ্ছ্বাস ও ঘুর্ণিঝড়ের তাণ্ডবলীলায় ওই রাতে অনেক মা হারায় সন্তানকে, স্বামী হারায় স্ত্রীকে, ভাই হারায় বোনকে। কোথাও কোথাও গোটা পরিবারই হারিয়ে যায় পানির স্রোতে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ঘনঘন ঝড় জলোচ্ছ্বাস বাংলাদেশে আঘাত হানে।হয়ে পড়েছে প্রাকৃতিক দুযোর্গ প্রবণ দেশ। সরকারও পাশাপাশি দুযোর্গ মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্তুতি নেয়।তবুও ক্ষতি হয় দেশবাসীর।

পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফান্ড যেন সঠিকভাবে মানুষের নিরাপত্তায় ব্যবহৃত হয় সে দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।আর যেন ২৯ এপ্রিলের ক্ষতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।


নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

newssbna-ad

The Village Restaurant And Party Centre Finlay house ,Ground floor (oposite CGO building 11) Agrabad C/A Or Call 0176588888

ওয়েব সাইটে প্রকাশিত কোন প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও মতামত এর জন্য সম্পাদক কোন ভাবে দায়ী নন